হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

চীনের ওপর নির্ভরতায় কৌশলগত ঝুঁকি বাড়ছে পশ্চিমা দেশগুলোর

দ্য গার্ডিয়ান

আধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিতে হবে। এসব খনিজের খনন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করেছে। তাই বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন জরুরি। দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার এক সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা হয়েছে।

২০১০ সালে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ নিয়ে জাপানের সঙ্গে উত্তেজনার সময় চীন গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিরল খনিজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল। এতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। কিন্তু এরপরও এসব খনিজের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ রেয়ার আর্থ খনন এবং প্রায় ৯০ শতাংশ পৃথকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বিরল খনিজ নাম হলেও এসব ধাতু পৃথিবীতে একেবারে বিরল নয়। মাটিতে এগুলো সাধারণত খুব কম ঘনত্বে পাওয়া যায়। ফলে এগুলো উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাত করা ব্যয়বহুল, জটিল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এ কারণেই একসময় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

রেয়ার আর্থের ব্যবহার এখন অত্যন্ত বিস্তৃত। উন্নত সামরিক অস্ত্র, স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি, বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইনসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি তৈরিতে এসব খনিজ প্রয়োজন হয়। ফলে সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতেও প্রভাব পড়তে পারে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য বিরোধের সময় চীন বিরল খনিজের রপ্তানি সীমিত করায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। এর পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করে। আসন্ন নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এক বছরের বাণিজ্যিক সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। নতুন করে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ইতোমধ্যে কিছু বিরল খনিজের দাম বেড়েছে।

চীনকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রও বড় উদ্যোগ নিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মজুত গড়ে তুলতে ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। মার্কিন কর্মকর্তারা নতুন সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার এই উদ্যোগকে ‘রেয়ার আর্থের ম্যানহাটন প্রজেক্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীনও বিকল্প উৎস খুঁজছে। দুই দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা, গ্রিনল্যান্ড ও বিশেষ করে ব্রাজিলের দিকে নজর দিচ্ছে। তবে নতুন করে ব্যাপক খনন শুরু হলে পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিরল খনিজ পুনর্ব্যবহার এবং খনির বর্জ্য থেকে এসব উপাদান সংগ্রহের নতুন প্রযুক্তি পরিবেশের ক্ষতি কমাতে পারে। তবে এতে নতুন করে খনিজ উত্তোলনের প্রয়োজন পুরোপুরি বন্ধ হবে না।

এ ক্ষেত্রে কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় কমিশন ও যুক্তরাজ্যসহ ৫৪টি অংশীদারকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের একটি জোট গঠন করেছে। তবে ইউরোপের জন্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করাও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে পত্রিকাটি।

বিরল খনিজের মজুত গড়ে তোলা, খনন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বড় বিনিয়োগ এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারত্বকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপও ২০২৫ সালের ‘ক্রিটিক্যাল র’ ম্যাটেরিয়ালস অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

চীনের বাইরে ১৭ ধরনের বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাত করার সবচেয়ে বড় স্থাপনা রয়েছে ফ্রান্সে। একই সঙ্গে ব্রাজিলের খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তির আলোচনাও চলছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো প্রয়োজনের তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনীতি ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে ওঠায় বিরল খনিজ এখন শুধু শিল্পের কাঁচামাল নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। ফলে নির্ভরযোগ্য ও বহুমুখী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য ক্রমেই বড় কৌশলগত প্রয়োজন হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২,১১৯ মামলা

দেড় বছর ধরে বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, সচলের দাবিতে মানববন্ধন

রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলি নিজেই নিরাপত্তার বাইরে

জর্ডানে ইরানের পাল্টা আঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে নতুন মাত্রা

বগুড়ায় হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

ইন্দোনেশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের বার্ষিক সামরিক মহড়া শুরু

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি—প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ঢাবি ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক আল-আমিন