সরকারি পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করার সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে।
গ্রেপ্তারের পরে রাজা চার্লস তৃতীয় বলেন, ‘আইনকে অবশ্যই তার নিজস্ব গতিতে চলতে হবে’ এবং পুলিশকে ‘পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতা’ দেওয়া হয়েছে। অ্যান্ড্রু রাজা চার্লসের ছোট ভাই।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক এবং গোপন তথ্য লেনদেনের অভিযোগ তদন্তের বিষয়টি বিবেচনা করছে। সম্প্রতি মার্কিন সরকারের প্রকাশ করা এপস্টিনের ফাইলের কিছু অংশে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে দাবি করা হয়, ২০১০ সালে এপস্টিন আরেকজন নারীর সঙ্গে অ্যান্ড্রুর যৌন সম্পর্কের জন্য যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছিলেন। ওই নারী তখন ২০-এর কোটায় ছিলেন এবং ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন না। তবে গ্রেপ্তারকৃত অ্যান্ড্রু এই যৌন অপরাধের কোনো অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না।
ডিউক অব ইয়র্ক অ্যান্ড্রু ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময়ে বিশ্বজুড়ে সফরে গিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন সরকারি ও ব্যাবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রকাশিত নথি অনুসারে, আফগানিস্তানে স্বর্ণ ও ইউরেনিয়ামে বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কিত তথ্য এবং ২০১০ সালে ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও চীনের সরকারি সফরের প্রতিবেদন তিনি এপস্টিনের কাছে পাঠিয়েছিলেন।
সরকারি নির্দেশনায় বলা রয়েছে, বাণিজ্য দূতদের সরকারি সফরের সংবেদনশীল, বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। অ্যান্ড্রু সব সময় এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে অন্যায় কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। জানুয়ারিতে এপস্টিন-সংক্রান্ত লাখ লাখ ফাইল প্রকাশের পরও তিনি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
এসআর