হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

স্কুলশিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, পুলিশের গ্রেনেডে হাত বিচ্ছিন্ন কিশোরের

আমার দেশ অনলাইন

ফ্রান্সে স্কুলের অব্যবস্থাপনা, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ অবস্থার প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ফ্রান্সের লঁস শহরে। আহত কিশোরকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তার জীবন ঝুঁকিতে নেই। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের একটি ইউনিয়ন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ যে স্টিং-বল গ্রেনেড ছুড়েছিল, কিশোরটি সেটি তুলে পুলিশের দিকে ফেরত ছোড়ার চেষ্টা করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। তবে স্থানীয় সংবাদপত্র ‘লা ভোয়া দ্য নোর’-এর উদ্ধৃত এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, কিশোরটি গ্রেনেডটি তুলেনি। ফলে বিস্ফোরণের সঠিক পরিস্থিতি এখনো তদন্তাধীন।

ঘটনাটি লঁসের অগুস্ত বেহাল উচ্চবিদ্যালয়ের কাছে ঘটে। পা-দ্য-কালে অঞ্চলের প্রিফেক্ট ফ্রাঁসোয়া-জাভিয়ের লোশ জানিয়েছেন, ঘটনার সময় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ছিল। এরপর দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ সেখানে হস্তক্ষেপ করে।

এদিকে ফ্রান্সজুড়ে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং জরাজীর্ণ ভবনের কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে, কোথাও তেলাপোকা ও ভেঙে পড়া ছাদের সমস্যা রয়েছে; গ্রীষ্মে অতিরিক্ত গরমও শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিক্ষোভ শুরু হয় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্যারিসের উপকণ্ঠের একটি উচ্চবিদ্যালয় থেকে। পরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি উচ্চবিদ্যালয় পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশটির মোট ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে ৪০০টির বেশি কোনো না কোনোভাবে বিক্ষোভে প্রভাবিত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তীব্র হয়েছে। লঁসের ঘটনার পাশাপাশি তুর শহরের ১৬ বছর বয়সী আরেক শিক্ষার্থী পুলিশের রাবার বুলেটের আঘাতে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, তার আঘাত রাবার বুলেটের আঘাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নো শিক্ষার্থীদের দাবিকে ‘ন্যায্য’ বলে স্বীকার করেছেন। তিনি অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বিকল্প শিক্ষক দিয়ে পূরণ করা, দীর্ঘ স্কুল-সময়সূচি পর্যালোচনা এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কারের বিষয়ে মন্ত্রীদের ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। মাসের শেষ নাগাদ এসব বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

তবে পরিস্থিতি শুধু শিক্ষা সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিক্ষোভের বিভিন্ন ঘটনায় স্কুলে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আন্দোলন শুরুর পর থেকে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বড় অংশই কিশোর।

অন্যদিকে শিক্ষার্থী ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলো পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে। মঙ্গলবার দেশজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে শিক্ষক, শ্রমিক, সরকারি কর্মী ও অভিভাবকদের সংগঠনও অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ফলে ফ্রান্সে স্কুলশিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন কেবল শিক্ষক সংকট বা স্কুল ভবনের সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, সামাজিক বৈষম্য, সরকারি বিনিয়োগের ঘাটতি এবং বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা—সব মিলিয়ে এটি দেশটির বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। লঁসের কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা সেই উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, এএফপি ও সিএনএ

ফ্রান্সে দুই হাজার স্কুল অবরূদ্ধ, ৩০ শহরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম

সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন প্রতিরোধে ইইউর ১৩ কোটি ইউরো বরাদ্দ

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত, বন্ধ ৫০০ স্কুল

আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল আবিষ্কারে নোবেল পেলেন তিন চিকিৎসাবিজ্ঞানী

আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

জায়নবাদকে ‘বর্ণবাদ’ হিসেবে ঘোষণা করল যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টি

জার্মান চ্যান্সেলরের সফরের মধ্যেই কিয়েভে ড্রোন হামলা রাশিয়ার

আবাসন সংকটে স্পেনে বিক্ষোভ, বিপাকে সরকার

বিক্ষোভের মুখে ফ্রান্স সরকারের বড় সিদ্ধান্ত, উত্তাল হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান