ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ফন ডের লায়েন সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ব এখন এমন এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করছে, যেখানে অর্থনৈতিক, সামরিক ও ভূরাজনৈতিক ‘নগ্ন শক্তি’ই প্রধান নিয়ামক। এই প্রেক্ষাপটে ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দ্রুত অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা খাত শক্তিশালী করতে হবে এবং বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারে আরও আরও কঠোর হতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মিত্রদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে তা কেবল পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিদ্বন্দ্বীদেরই শক্তিশালী করবে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার প্রাক্কালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিকেও তিনি ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, মিত্রদের মধ্যে যদি সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের এক বিপজ্জনক চক্র শুরু হয়, তবে তা কৌশলগতভাবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হবে।
বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় চলমান পরিবর্তন সাময়িক নয়, বরং স্থায়ী। তিনি গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে উত্তেজনা, ইউক্রেনে রাশিয়ার অব্যাহত হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা অস্থিরতার কথা তুলে ধরেন।
ফন ডের লায়েন বলেন, ইউরোপের দীর্ঘদিনের সতর্ক ও সংযত অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। তাঁর ভাষায়, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতা হয়তো অনেকের অপছন্দের, কিন্তু সেই বাস্তবতার মধ্যেই ইউরোপকে টিকে থাকতে ও নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।
ফন ডের লায়েন জানান, ইউরোপ সংলাপ ও সমাধানকে অগ্রাধিকার দিলেও প্রয়োজনে ঐক্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে অভিন্ন অবস্থান নির্ধারণে ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের বৈঠকের আগেই তিনি এ মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, খনিজসম্পদসমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। তবে ডেনমার্কের কাছ থেকে দ্বীপটি অধিগ্রহণের প্রসঙ্গ ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ সম্পর্ককে সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক সংকটময় পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: এএফপি
এসআর