তুরস্কের তৈরি আরো ১৫টি সুপারসনিক প্রশিক্ষণ বিমান ‘হুরজেট’ কেনার পরিকল্পনা করছে স্পেন। এর আগে ৩০টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে দেশটি। তুর্কি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (টিএআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহমেত দেমিরোগলু এ তথ্য জানিয়েছেন।
তুরস্কের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ কাস্তামোনুতে এক অনুষ্ঠানে দেমিরোগলু বলেন, ২০২৮ সালে স্পেনের কাছে বিমান সরবরাহ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। প্রথম দফার ৩০টি বিমানের চুক্তি সই হওয়ার পর স্পেন আরো ১৫টি কেনার পরিকল্পনা করছে।
তিনি বলেন, তুরস্কের বিমানবাহিনীর কাছে হুরজেট সরবরাহ শুরুর আগেই স্পেন বিমানটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ৩০টি বিমান কেনার চুক্তি হয়।
দেমিরোগলু তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি খাতের উৎপাদন সক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, একই স্থাপনায় ‘কান’ যুদ্ধবিমান, হুরজেট ও হুরকুশ বিমান, হেলিকপ্টার, চালকবিহীন আকাশযান, কৃত্রিম উপগ্রহ এবং বিমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে কাজ হচ্ছে। ছয়টি পৃথক ক্ষেত্রে গবেষণা, পরীক্ষা ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সেখানে।
হুরকুশ বিমানের সরবরাহ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতেও এ কার্যক্রম চলবে। আজারবাইজানকে সম্ভাব্য রপ্তানি বাজার হিসেবে উল্লেখ করে আরও বিদেশি ক্রেতা পাওয়ার আশাও প্রকাশ করেন তিনি।
দেমিরোগলুর তথ্যমতে, তুর্কি অ্যারোস্পেসে বর্তমানে ১৬ হাজার ৫০০ কর্মী কাজ করছেন। তাঁর দাবি, প্রতিরক্ষা শিল্পে তুরস্কের সাফল্য দেশটির আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী করেছে এবং তুর্কি প্রযুক্তির প্রতি বিশ্বজুড়ে আগ্রহ বাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, তুরস্কের প্রতিরক্ষা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য যুদ্ধ শুরু করা নয়, বরং যুদ্ধ ঠেকানোর সক্ষমতা বাড়ানো। ‘কান’ যুদ্ধবিমান তৈরির উদ্দেশ্যও একই—যাতে এটি ব্যবহার করার প্রয়োজন না হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান দেমিরোগলু। তুরস্কের মহাকাশ ও প্রযুক্তি উৎসব ‘টেকনোফেস্ট’ তরুণদের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ বাড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কাস্তামোনু প্রাদেশিক জাতীয় শিক্ষা অধিদপ্তর অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি