যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ সময়ের জন্য ফিরে এসেছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। তবে রাজপরিবার থেকে দূরত্ব, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে টানাপোড়েন এবং জনমনে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্নের কারণে তাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যে ফিরে স্বাভাবিক জীবন গড়ে তুলতে হলে হ্যারি-মেগানকে রাজপরিবার ও ব্রিটিশ জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে মনোযোগ দিতে হবে। এ জন্য তাদের সামনে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছেন দ্য গার্ডিয়ানের রাজপ্রাসাদবিষয়ক সাবেক প্রতিবেদক স্টিফেন বেটস বেটস।
হ্যারি-মেগান চলতি সপ্তাহে বার্মিংহাম বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরেছেন। তাদের দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেটও যুক্তরাজ্যের স্কুলে ভর্তি হয়েছে। ২০২০ সালে রাজপরিবারের কর্মরত সদস্যের দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যাওয়ার পর এটি তাদের প্রথম দীর্ঘমেয়াদি ব্রিটেন অবস্থান। তবে তারা রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে ফিরছেন না।
বেটসের প্রথম পরামর্শ হলো, ব্রিটেনের রাজপরিবার ও সমাজ সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং বাস্তব পরিস্থিতি বোঝেন এমন দক্ষ পরামর্শক নিয়োগ করা। তার মতে, হ্যারি-মেগানের এখন এমন ব্যক্তিদের প্রয়োজন, যারা কখন কথা বলতে হবে, কীভাবে নিজেদের উপস্থাপন করতে হবে এবং কোন বিষয় প্রকাশ্যে না বলাই ভালো—এসব বিষয়ে সঠিক পরামর্শ দিতে পারবেন।
দ্বিতীয়ত, রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে হবে। বিশেষ করে প্রিন্স উইলিয়াম ও ক্যাথরিনের সঙ্গে আস্থা পুনর্গঠনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বেটস। তার মতে, দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটানো কঠিন হলেও যুক্তরাজ্যে তাদের নতুন জীবনযাপনের জন্য এটি জরুরি।
তৃতীয় পরামর্শ হলো, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশ নেওয়া। দাতব্য কার্যক্রম, বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি ও জনসাধারণের অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে এটি যেন শুধু প্রচারের জন্য সাময়িক উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং নিয়মিত ও আন্তরিকভাবে করা হয়—এমনটাই মনে করেন বেটস।
চতুর্থত, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, হ্যারি-মেগানকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সব সময় বিরোধপূর্ণ অবস্থানে না থেকে আরও খোলামেলা ও বাস্তববাদী হতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা উল্টো আরও বেশি আগ্রহ তৈরি করতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
বেটসের পঞ্চম এবং সবচেয়ে সরল পরামর্শ—হ্যারি ও মেগানকে হাসিমুখে থাকতে হবে। তার মতে, তারা অত্যন্ত সুবিধাজনক ও প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। তাই নিজেদের সব সময় ক্ষতিগ্রস্ত বা অবহেলিত হিসেবে উপস্থাপন করলে ব্রিটিশ জনগণের সহানুভূতি পাওয়ার বদলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।
এদিকে তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তারা এখন আর কর্মরত রাজপরিবারের সদস্য নন। ফলে তাদের নিরাপত্তার খরচ কে বহন করবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা নেই। বর্তমানে নিরাপত্তার বিষয়টি পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
হ্যারি-মেগান যুক্তরাষ্ট্রে তাদের মন্টেসিটোর বাড়ি রাখছেন এবং যুক্তরাজ্যের বাইরে একটি অরাজকীয় বাসভবনে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদন এসেছে। মেগান যুক্তরাজ্যে থেকেও তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করবেন।
যুক্তরাজ্যে ফিরে হ্যারি-মেগানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ব্রিটিশ জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। তাদের নতুন জীবন কতটা সফল হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে তারা অতীতের বিরোধ কতটা পেছনে রেখে নতুনভাবে নিজেদের ভূমিকা তৈরি করতে পারেন তার ওপর।