ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক বিক্ষোভ ও অবরোধের কারণে বুধবার দেশজুড়ে প্রায় ২০০টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকার আশঙ্কা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া উন্নত করতে নতুন প্রস্তাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটির সরকার। খবর আনাদোলুর।
ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভিকে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, দেশের ৯৬ শতাংশ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রয়েছে। এ ছাড়া দেশের তিন-চতুর্থাংশ প্রশাসনিক অঞ্চলে শিক্ষাকার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। এর আগের দিন দেশজুড়ে পঞ্চম দফায় বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
রাজধানী প্যারিসের ভলতেয়ার, হেলেন-বুশে ও বালজাক স্কুল কমপ্লেক্সসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। প্রবেশের সমস্যার পাশাপাশি নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বালজাক কর্তৃপক্ষ সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান স্থগিত করেছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ফিলিপ বাতিস্ত অক্টোবরের শেষ নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অনলাইন ব্যবস্থা ‘পারকুরসুপ’ উন্নত করার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেবেন।
জেফ্রে বলেন, ব্যবস্থাটিতে ‘প্রয়োজনে বড় ধরনের পরিবর্তন’ আনার বিষয়েও তিনি আগ্রহী। তবে এটি পুরোপুরি বাতিল করা হলে এর বিকল্প কী হবে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সরকারের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সংগ্রহের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জমা পড়া ৯০ হাজার মতামতের মধ্যে ২০ শতাংশেরও কম অভিযোগ পারকুরসুপ-সংক্রান্ত বলে জানান তিনি।
তবে ফ্রান্সের স্কুল সমাপনী পরীক্ষা ‘ব্যাকালরেয়া’য় তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে আমি ব্যাকালরেয়ায় পরিবর্তন আনব না। বারবার সংস্কার করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।’
আগামী বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বাতিস্তের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এ খাতে ১০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগের দাবি জানাচ্ছেন।
শিক্ষার্থী সংগঠন ‘লে লিসেয়াঁ!’-এর সভাপতি পিয়েরে সোরজা ফ্রান্সইনফোকে বলেন, এখন পর্যন্ত তাঁরা ‘সামান্য কিছু’ পেয়েছেন। তাই বৈঠক থেকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ আশা করছেন তাঁরা।
বিক্ষোভের আয়োজকেরা বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ দফার কর্মসূচি ঘোষণা না করলেও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন অবরোধ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি রিয়াদ রানি ও অন্য শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা শনিবার নির্ধারিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ বিক্ষোভেও অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও স্ট্রাসবুর্গের ক্লেবের উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আবার শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হয়েছে।