ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে রাশিয়া। সার্বভৌম কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মস্কো হস্তক্ষেপ করে না বলে দাবি করে রাশিয়া বলেছে, ‘রুশ হুমকি’র কথা বলে ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোর রাশিয়াবিরোধী নীতি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে।
প্যারিসে রুশ দূতাবাস আনাদোলুকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানায়। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, পশ্চিমা দেশগুলো ক্রমাগত রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে এবং নিজেদের তৈরি ‘রুশ হুমকি’র ধারণাকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়াবিরোধী নীতি ও সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির চেষ্টা করছে।
রুশ দূতাবাস আরও দাবি করে, সামরিক খাতে অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ানো হলে সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ঋণের বোঝাও বাড়বে, যার দায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বহন করতে হবে।
তবে ফ্রান্সের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ করে আসছেন।
ফ্রান্সের বিদেশি ডিজিটাল হস্তক্ষেপ পর্যবেক্ষণ সংস্থা ভিজিনাম জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মে দুটি রাশিয়াপন্থি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর কার্যক্রম চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব নেটওয়ার্কের নাম ম্যাট্রিওশকা ও স্টর্ম-১৫১৬।
ফরাসি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও রেনেসাঁ পার্টির নেতা গ্যাব্রিয়েল আতাল, হরাইজনস পার্টির নেতা এদুয়ার ফিলিপ এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রাফায়েল গ্লুকসম্যানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
গ্যাব্রিয়েল আতাল অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ফরাসি জনগণের নির্বাচনী সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁও নির্বাচনের সময় বিপুলসংখ্যক ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছিলেন।
ফ্রান্সে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ১৮ এপ্রিল। প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ২ মে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র: আনাদুলু এজেন্সি