ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে শান্তি আলোচনার সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলো সমাধানের জন্য ইউক্রেন ও রাশিয়ার নেতাদের ব্যক্তিগতভাবে মুখোমুখি বৈঠকে বসা প্রয়োজন। তবে তার দাবি, এই যুদ্ধ থামানোর মতো চুক্তি করানোর ক্ষমতা কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরই রয়েছে।
চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধের অবসান ত্বরান্বিত করতে কিয়েভ আগ্রহী বলে জানিয়েছেন সিবিহা। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনসহ অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয় সামনে আসার আগেই মার্কিন মধ্যস্থতায় আলোচনার বর্তমান গতি কাজে লাগাতে চায় ইউক্রেন।
কিয়েভে নিজের কার্যালয়ে ডিনিপ্রো নদীর তীরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিবিহা বলেন, ‘শুধুমাত্র ট্রাম্পই এই যুদ্ধ থামাতে পারবেন।’
তিনি জানান, সাম্প্রতিক ইউক্রেন-রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অধিকাংশ বিষয়েই সমঝোতা হয়েছে। এসময় তিনি আরো বলেন, ‘মাত্র কয়েকটি বিষয় বাকি রয়েছে, যেগুলো সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং সবচেয়ে কঠিন—এসব নেতাদের পর্যায়েই নিষ্পত্তি করতে হবে।’
তবে ভূমি ইস্যুতে উভয় পক্ষ এখনও অনেক দূরে অবস্থান করছে। রাশিয়া দাবি করছে, ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক অঞ্চলের পূর্বাংশের বাকি ২০ শতাংশ ছেড়ে দিতে হবে—যা তারা দীর্ঘ যুদ্ধ সত্ত্বেও পুরোপুরি দখল করতে পারেনি।
কিয়েভ এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ফেরত চায়, যা বর্তমানে রাশিয়া-অধিকৃত এলাকায় অবস্থিত এবং ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক কেন্দ্র।