গ্রিস থেকে জার্মানির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া রায়ানএয়ারের একটি যাত্রীবাহী বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ এক ঘটনা ঘটে। উড্ডয়নের কিছু সময় পর বিমানের একটি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে খুলে গেলে এক যাত্রী আংশিকভাবে বাইরে ছিটকে পড়েন। তবে সিটবেল্ট বাঁধা থাকায় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়াতে সক্ষম হন তিনি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, আহত ব্যক্তি সার্বিয়ার একজন পর্যটক। তিনি গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিঙ্গেনে যাচ্ছিলেন। ঘটনার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় বিমানের অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে সবাই চমকে ওঠেন। এরপর কেবিনের বায়ুচাপ কমে গেলে অক্সিজেন মাস্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচে নেমে আসে এবং পুরো কেবিনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এক যাত্রী বলেন, প্রথমে মনে হয়েছিল যেন বিমানের টায়ার বিস্ফোরিত হয়েছে। পরে বুঝতে পারেন কেবিনের চাপ কমে গেছে। চারদিকে চিৎকার শুরু হয় এবং একপর্যায়ে দেখা যায়, একজন যাত্রীর মাথা ও কাঁধ জানালার বাইরে চলে গেছে। সৌভাগ্যক্রমে তিনি সিটবেল্ট পরা অবস্থায় ছিলেন। পরে আশপাশে থাকা যাত্রীরা তাকে নিরাপদে ভেতরে টেনে আনেন।
গ্রিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিমানের একটি ইঞ্জিন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ধাতব অংশের আঘাতে জানালাটি ভেঙে যায়। উত্তর মেসিডোনিয়ার আকাশসীমায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটি থেসালোনিকি বিমানবন্দরে ফিরে আসে এবং নিরাপদে অবতরণ করে। রায়ানএয়ার জানিয়েছে, সব যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে পরে তাদের গন্তব্য মেমিঙ্গেনে পৌঁছে দিতে বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করা হয়।
সূত্র: এনডিটিভি