ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্রের পদ ও দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শেহজাদ পুণাওয়ালা। সোমবার বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন শেহজাদ। এর আগে গত ৩০ জুলাইও তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে সে সময় দল তাকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিল।
সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের বিষয়ে শেহজাদ বলেন, দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জরুরি আর্থিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে আবার বেসরকারি খাতে চাকরিতে ফিরতে চান। তার দাবি, ২০২৪ সাল থেকেই রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে চাকরিজীবনে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। বিজেপির মুখপাত্রের দায়িত্বটি বেতনভুক্ত নয় এবং এটি স্বেচ্ছাসেবী পদ হওয়ায় আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে তাকে নতুন করে কর্মজীবনে ফিরতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন রাজনীতিতে বছরের প্রায় প্রতিটি দিন সময় দিয়েছেন। কিন্তু একপর্যায়ে চাকরি ও রাজনীতির মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত তিনি চাকরিতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মহারাষ্ট্রের একটি সংখ্যালঘু পরিবারের সন্তান শেহজাদের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআইয়ের মাধ্যমে। তিনি সংগঠনটির পুনে কমিটির সভাপতি এবং মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এআইসিসির মিডিয়া সেলের গবেষণা বিভাগেও কাজ করেছেন তিনি।
২০১৭ সালে কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে দল ছাড়েন শেহজাদ। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং দলের অন্যতম পরিচিত জাতীয় মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের পরিচিতি থেকে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্রের পদটি সরিয়ে দেন তিনি।
শেহজাদের পদত্যাগের সময়টি নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিজেপির জাতীয় পদাধিকারীদের মধ্যে বড় ধরনের রদবদলের সময়েই তার দল ছাড়ার ঘটনা ঘটেছে। যদিও শেহজাদ এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক বিরোধের কথা উল্লেখ না করে ব্যক্তিগত ও আর্থিক কারণকেই তার সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা