ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া বাংলাভাষী কয়েক ব্যক্তিকে আবার ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশটির সুপ্রিম কোর্টকে এ তথ্য জানিয়েছে। এরপর আদালত এ-সংক্রান্ত মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করেছে। তবে নাগরিকত্ব ও বহিষ্কারসংক্রান্ত আইনি প্রশ্নগুলো অমীমাংসিত রাখা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত শর্মার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাভাষী কয়েক ব্যক্তিকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আদালত এ তথ্য নথিভুক্ত করে জানায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতে ফিরে আসায় এই মুহূর্তে মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার সুনালি খাতুন, সুইটি বিবিসহ কয়েকজনকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। হাইকোর্ট তাদের এক মাসের মধ্যে ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশও দিয়েছিল।
সুনালি খাতুনের পরিবারের অভিযোগ ছিল, তাকে তার স্বামী ও সন্তানসহ আটক করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। একই ধরনের অভিযোগ ওঠে সুইটি বিবি ও তার সন্তানদের ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশে পাঠানোর পর তাদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় পুলিশ আটক করেছিল ।
গত ২২ মে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় আগে বাংলাদেশে পাঠানো কয়েকজনকে ফিরিয়ে এনে তাদের ভারতীয় নাগরিকত্বের দাবি যাচাই করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, এটি কোনো নজির হিসেবে গণ্য করা হবে না; যাচাই শেষে তাদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে গত ডিসেম্বরে মানবিক কারণে সুনালি খাতুন ও তার আট বছর বয়সি সন্তানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সে সময় অন্তঃসত্ত্বা সুনালি খাতুনের চিকিৎসা ও প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সর্বশেষ শুনানিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনজীবী জানান, সলিসিটর জেনারেলের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং সবাই ভারতে ফিরে এসেছেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, এ ঘটনায় নাগরিকত্ব ও কাউকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে যে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন উঠেছে, সে বিষয়ে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া