ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শনিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। সাত বছর পর এটাই ভারতে শি জিনপিংয়ের প্রথম সফর। তাই শির এবার আগমনকে অনেক গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করছে দেশটি। নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে দিল্লি। শির যাতায়াতের পথে সাত শতেরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও পাঁচটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে।
শি জিনপিংয়ের জন্য বহু-স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
চীনা প্রেসিডেন্টের দিল্লি সফর ঘিরে বহুস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার যাতায়াত ও অবস্থানের নিরাপত্তায় একাধিক সরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
দিল্লির যে হোটেলে শি জিনপিং থাকবেন, সেটির ওপর নো-ফ্লাই জোন কার্যকর থাকবে। হোটেলে সন্ত্রাসবিরোধী ও বোমা শনাক্তকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশি।
শি জিনপিং তাজ প্যালেস, নয়াদিল্লিতে অবস্থান করবেন। তার সফরকে কেন্দ্র করে হোটেলটির সব কক্ষ আগেই বুক হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা তল্লাশির আওতায় সম্ভাব্য পারমাণবিক, তেজস্ক্রিয় ও জৈব-রাসায়নিক হুমকি শনাক্তের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। হোটেলের আশপাশের ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন ও অন্যান্য অবকাঠামোও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ভারতে আসার ১০ দিন আগেই পাঠানো হয়েছে শি’র লিমুজিন গাড়ি
শি জিনপিংয়ের সফরের প্রায় ১০ দিন আগেই চীন থেকে একটি কার্গো বিমানে তার রাষ্ট্রীয় গাড়ি ‘হংকি’, একটি বিকল্প গাড়ি এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম ভারতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা ভারতে অবস্থান করার পর রোববার সকাল ১১টার দিকে ভারত মণ্ডপম থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে চীনা প্রেসিডেন্টের।
তবে বিদেশি নিরাপত্তা দলের আনা কিছু সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ভারতের বিধিনিষেধ রয়েছে। স্যাটেলাইট যোগাযোগের সরঞ্জাম ভারতে ব্যবহারের অনুমতি নেই। একইভাবে নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্র ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম আমদানির অনুমতি না থাকায় সেগুলো ভারতে পৌঁছানোর পর কাস্টমসের কাছে জমা দিতে হয়।
এক কর্মকর্তা জানান, বিদেশি সরকারগুলোর উত্থাপিত নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল অনুযায়ী দিল্লি পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
উচ্চ-নিরাপত্তা সম্পন্ন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমান
শি জিনপিং ‘এয়ার চায়না'র পরিচালনায় একটি বিশেষায়িত বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেন; এটি চীনের প্রধান রাষ্ট্রীয় বিমান এবং একই সঙ্গে একটি ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে। মূলত একটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে তৈরি এই বিমানটি ২০১৪ সালে ‘এয়ার চায়না’-র সেবায় যুক্ত হয়। এরপর দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে রূপান্তরের কাজ চালানোর জন্য ২০১৫ সালের মে মাসে এটিকে পরিষেবা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ২০১৬ সালে ভিআইপি-সুলভ অভ্যন্তরীণ সজ্জা, সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজনের মাধ্যমে এটি রাষ্ট্রীয় সেবায় নিয়োজিত হয়।
বিমানটিতে এনক্রিপ্ট করা স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে, যার ফলে শি জিনপিং সরকারি ও সামরিক কমান্ড সেন্টারের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেন। এছাড়াও এতে রয়েছে হুমকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক্স সুরক্ষার জন্য ইএমপি (EMP) শিল্ডিং বা সুরক্ষা ব্যবস্থা।
নিরাপত্তাব্যবস্থায় ১৫ হাজার পুলিশ
ব্রিকস সম্মেলন সামনে রেখে পুরো দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য এবং আধাসামরিক বাহিনীর ২০০ কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দিল্লির বিভিন্ন সেক্টর ও জোনে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শান্তি পথ পর্যন্ত শি জিনপিংয়ের যাতায়াতের পথে ৭০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও পাঁচটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া তুঘলক রোড থানায় একটি পৃথক সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৫০০ ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা যাবে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার জন্য পুরো রুটে আরও অতিরিক্ত ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএমআর