হোম > বিশ্ব > ভারত

কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন না ভারতের প্রধান বিচারপতি

এনডিটিভি

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে বৈঠক করতে অপারগতা জানিয়েছেন। ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ নিয়ে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার নেতারা তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তবে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন থাকায় স্মারকলিপি দেওয়ার পরিবর্তে আবেদন করার মাধ্যমে আদালতের দ্বারস্থ হতে বলেছেন প্রধান বিচারপতি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করার অংশ হিসেবে আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করে তাদের অভিযোগ তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।

গতকাল রোববার বৈঠকের অনুরোধ জানিয়ে পাঠানো চিঠির জবাব দেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। আজ সোমবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (এনএইচআরসি) ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘গতকাল বৈঠকের অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি পেয়েছিলাম। কেন তাদের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হবে না, তা উল্লেখ করে গত রাতেই জবাব দিয়েছি।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের দরজা সবার জন্য খোলা। যেকোনো সাধারণ নাগরিক বা নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের কোনো সদস্য আবেদন করলে তা গ্রহণ করা হবে। প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার রয়েছে। আমরা তাদের বক্তব্য শুনব এবং আইন অনুযায়ী যা প্রাপ্য, তা নিশ্চিত করব।’

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিরোধী নেতাদের ই-মেইলে পাঠানো জবাবে বৈঠকে অপারগতার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও তার প্রতিনিধিদলের উত্থাপিত অভিযোগ প্রশাসনিক পথে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিবর্তে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করাই যথাযথ হবে বলে জবাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাহুল গান্ধী ও খাড়গে বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তাদের স্মারকলিপিতে ‘ভোট চুরি’ বন্ধ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) স্থগিত এবং আবার কাগজের ব্যালটে ভোট চালুর দাবি জানানো হয়েছিল।

কংগ্রেস সোমবারের কর্মসূচির নাম দিয়েছে ‘চলো দিল্লি—গণতন্ত্রের জন্য পদযাত্রা’। দুপুর দেড়টায় দিল্লির কনট প্লেস ও বারাখাম্বা রোডের সংযোগস্থলে নেতাদের জড়ো হওয়ার কথা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, দল, লিঙ্গ, জাতপাত, সম্প্রদায় ও রাজ্যের বিভেদ পেরিয়ে ভারতীয়রা এক হয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে পদযাত্রা করবেন।

রাহুলের অভিযোগ, গতকাল রোববার দিল্লিতে তরুণেরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করেছিলেন। তাদের মনে ভালোবাসা ছিল, ঘৃণা বা ক্ষোভ নয়। কিন্তু পুলিশ ও বিজেপির কর্মীদের হাতে তারা মারধরের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন ভারত চাই না।’

রাহুল আরো বলেন, তরুণ, সব বিরোধী দল, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং ভারতের গণতন্ত্র ও সংবিধানে বিশ্বাসী ব্যক্তিরা এই পদযাত্রায় অংশ নেবেন।

এর আগে গত শুক্রবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা সংসদ ভবন থেকে বিজয় চৌক পর্যন্ত পদযাত্রা করেন। পরে তারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে স্মারকলিপি দেন।

রোববার বেঙ্গালুরুতে এক অনুষ্ঠানে খাড়গে অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। শনিবারের বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ও বিক্ষোভকারীদের আটক করার ঘটনাকে তিনি তরুণদের আন্দোলন নিয়ে সরকারের ভীতির প্রকাশ বলে মন্তব্য করেন।

খাড়গে বলেন, ‘গতকাল প্রায় ৩২ হাজার পুলিশ সদস্য ও সাড়ে সাত হাজার কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। এতেই বোঝা যায়, তরুণদের আন্দোলন নিয়ে সরকার কতটা ভীত।’

তার অভিযোগ, এসব ঘটনা প্রমাণ করে, ভারতে গণতন্ত্রকে শান্তিপূর্ণভাবে চলতে দিতে চায় না সরকার। গণতন্ত্র ও জনগণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ

এর আগেও গত জুনে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পক্ষে রাহুল গান্ধী ও খাড়গে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগম (ডিএমকে) ও আম আদমি পার্টিও স্বাক্ষর করেছিল।

চিঠিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে উল্লেখ করেছিল বিরোধী জোট। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারসাজি করা হচ্ছে এবং একাধিক নির্বাচনের ফলাফল জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটায়নি।

চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ নিয়ে তাদের গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধীরা।

তাদের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালে এবং ফলাফলের ক্ষেত্রে বিজেপিকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়া হয়েছে।

বিরোধী নেতাদের আরো অভিযোগ, অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল না। যথাযথ নোটিশ ছাড়াই বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম ইচ্ছামতো বাদ দেওয়া হয়েছে। মৃত, স্থানান্তরিত ও একই ব্যক্তির একাধিক নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে এই কার্যক্রম শুরু হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব ছিল। অতীতে পরিচালিত ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ার সঙ্গেও এর পদ্ধতির মিল ছিল না বলে চিঠিতে দাবি করা হয়।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কথা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি অন্তত ১৪ বার নথিভুক্তভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম নিয়েও তাদের আপত্তি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যে গত সপ্তাহে ‘ইন্ডিয়া’ জোট যৌথ কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। এর মধ্যে সমাবেশ আয়োজন এবং ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ পদযাত্রার কর্মসূচিও রয়েছে।

এএম

ধনী দেশের দরিদ্রদের আয় ভারতের ধনীদের চেয়েও বেশি: বিশ্বব্যাংক

‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, সিইসির পদত্যাগ চেয়ে বললেন মমতা

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধে আরো উত্তাল ভারত, সামনে কী হতে পারে

পুরো ভারত হবে যন্তর মন্তর, বিক্ষোভস্থল বাতিলের পর হুঁশিয়ারি সিজেপির

মোদি যন্তর মন্তরকে ভয় পাচ্ছেন কেন, প্রশ্ন ককরোচ পার্টির

বিক্ষোভস্থল হিসেবে যন্তর মন্তরের নাম বাতিল করল মোদি সরকার, আন্দোলনে নতুন মোড়

২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত চাই, দিল্লি পুলিশকে সিজেপির আল্টিমেটাম

‘জ্ঞানেশ কুমারের ঘুম হারাম’, রাজসাক্ষী হওয়ার আহ্বান রাহুল গান্ধীর

ভারতের সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে এত বিতর্ক কেন

সিইসির অপসারণ চেয়ে প্রস্তাব উত্থাপন হচ্ছে কেরালার বিধানসভায়