বিশ্বজুড়ে সাঁড়াশি অভিযানের মুখে ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার এই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্স।
কানাডায় কৌতুক অভিনেতা কপিল শর্মার ক্যাফের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনার সূত্র ধরে ফ্রান্সে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক শীর্ষ সহযোগীকে।
পাশাপাশি, কানাডিয়ান পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত আরো এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অন্য এক সদস্যকে ভারতে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কানাডা কর্তৃপক্ষ।
রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ গত শুক্রবার জানিয়েছে, ফ্রান্স থেকে গরিন্দর দেব নামের এক গ্যাংস্টারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কানাডায় নিয়ে আসা হবে।
মার্কিন বিচার বিভাগের একটি অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৪০ বছর বয়সি গরিন্দর দেব ‘ডক্টর’, ‘রকেট’ এবং ‘রিটজ কার্লটন’ নামেও পরিচিত।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অপরাধমূলক নেটওয়ার্ককে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দিতেন। এছাড়া দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ কোকেন এবং হেরোইন পাচারের ষড়যন্ত্র ও সরবরাহে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
২০২৫ সালের জুনে প্রায় ৯৯.২ কেজি কোকেন এবং ১ কেজি হেরোইনের একটি চালান পাঠানোর চেষ্টার সঙ্গে তার নাম জড়ায়, যা পথিমধ্যেই মার্কিন সংস্থাগুলো জব্দ করেছিল।
জশানদীপ সিংকে বহিষ্কারের নির্দেশ কানাডার
ভিন্ন এক মামলায়, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কথিত সদস্য জশানদীপ সিংকে দেশ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে কানাডার ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি ট্রাইব্যুনাল’।
কানাডার সারে নামক এলাকায় কৌতুক অভিনেতা কপিল শর্মার ক্যাফের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে জশানদীপের বিরুদ্ধে। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
জশানদীপ ২০২২ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডায় এসেছিলেন। অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগই তিনি অস্বীকার করেছেন। এর আগে আর্শদীপ সিং নামের বিষ্ণোই গ্যাংয়ের আরেক সদস্যকেও কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
বিশ্বজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান
যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং কানাডায় পর পর এই অ্যাকশন লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিদেশি নেটওয়ার্ক ধ্বংসের একটি বড় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ভারত-ভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধ চক্রকে লক্ষ্য করে চালানো এক যৌথ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপজুড়ে ২৪ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খুন, মাদক পাচার, চাঁদাবাজি এবং আন্তঃসীমান্ত সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এটিকে অন্যতম বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এএম