ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দেশটি থেকে জ্বালানি তেল কেনার অভিযোগে চার ভারতীয় কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গতকাল সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া চার প্রতিষ্ঠান হলো—পোর্টিস পার্টনার এলএলপি, সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড, পিআর সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব কোম্পানি ইরান থেকে তেল আমদানি, মজুত, স্থানান্তর ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে ইরানকে তেল রপ্তানিতে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা রয়েছে।
‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এই অভিযানকে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে অভিহিত করেছে।
ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইরানের সামরিক বাহিনী ও জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। ভারতের চার কোম্পানির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে এই নীতিরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তার প্রশাসন দেশটিকে অনেক সুযোগ ও ছাড় দিয়েছে। কিন্তু ইরান চুক্তিতে রাজি না হওয়ায় তার প্রশাসন দেশটির বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করছে।
ট্রাম্প বলেন, এটি হবে একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধ। এর ফলে ইরান আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে অভূতপূর্ব মাত্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা করা দেশগুলোকেও সতর্ক করেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, কোনো দেশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য, বিমানবন্দর বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানকে সহায়তা করলে সেই দেশকেও গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
তেল চোরাচালান, পণ্য বিনিময়, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন ও ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ইরানকে সহযোগিতা বন্ধ করার কথাও বলেন তিনি।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কাস্টমস ব্রোকার প্রতিষ্ঠান পোর্টেজ পার্টনার্স ভারতে বিপুল পরিমাণ ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য সরবরাহে সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির দুই অংশীদার ইদ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ ও হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গির ওপরও একই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সদাশিব ওভারসিজ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি তেলজাত পণ্য আমদানি করে। পিপি সফটটেক একই সময়ে আমদানি করেছে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক প্রশান্ত গর্গও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছেন।
এ ছাড়া প্রকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ইরানি পণ্য আমদানি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ইরানের জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি থেকে আসা রাজস্ব পুরোপুরি বন্ধ করা।
নিষেধাজ্ঞার নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বা কোনো মার্কিন নাগরিকের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং তাদের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নীতিগতভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
সূত্র: এএনআই, এনডিটিভি
এএম