একদিকে দেশের সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্ন, অন্যদিকে নদীর পাড়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা মানুষের ঘর-সংসার। ইছামতির পাড়ে এখন সেই দুই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ। সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপত্তি নেই তাদের, কিন্তু সেই কাঁটাতারের জন্য যদি বসতভিটা, দোকানপাট কিংবা জীবিকার জায়গা হারাতে হয়, তাহলে কোথায় দাঁড়াবেন তারা? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে হিঙ্গলগঞ্জ থেকে সামশেরনগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায়।
উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে ইছামতি নদীর পাড় থেকে প্রায় ১৫০ ফুট জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবীরা। তাদের দাবি, এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে আটটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বহু মানুষ সমস্যায় পড়তে পারে। বিশেষ করে নদীকে ঘিরে যাদের জীবন-জীবিকা, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বহু পরিবার বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
এই আশঙ্কা থেকে মঙ্গলবার শতাধিক ব্যবসায়ী ও গ্রামবাসী প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার হাতে মিছিল করেন। ব্যবসায়ী সুশান্ত ঘোষের নেতৃত্বে মিছিলটি হিঙ্গলগঞ্জ বিডিও অফিসে পৌঁছয়। সেখানে বিডিও দেবদাস গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে স্মারকলিপি তুলে দেন তারা।
স্থানীয়দের বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তা সর্বাগ্রে। সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার বিরোধিতা তারা করছেন না। তাদের আবেদন, নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে গিয়ে যেন সাধারণ মানুষের ঘর ও জীবিকা অনিশ্চিত না হয়ে পড়ে। অবিভক্ত বাংলার সময় থেকেই এই এলাকায় ব্যাবসা-বাণিজ্যের ঐতিহ্য রয়েছে বলে দাবি তাদের।
১৭৮৩ সাল থেকে চলে আসা সেই ঐতিহ্য, বসতভিটা এবং মৎস্যজীবীদের রুজি-রোজগার রক্ষা করে সীমান্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। কাঁটাতার সীমান্তকে সুরক্ষিত করবে, কিন্তু সেই সুরক্ষার আড়ালে যদি নদীর পাড়ের মানুষের ঘর-সংসারই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে? এই মানবিক প্রশ্নই এখন সামনে আনছেন ইছামতির পাড়ের মানুষ।