ভারতে আগস্ট মাসে অন্তত ৫৪টি মুসলিমবিরোধী ঘৃণাজনিত অপরাধ বা ‘হেট ক্রাইম’ নথিভুক্ত হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এসব ঘটনায় হামলা, হুমকি, বৈষম্য, ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং মুসলিমদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আগস্ট মাসের ঘটনাগুলো নিয়ে দ্য নিউ কমরেড নামে আরেকটি ওপেন-সোর্স সংকলন ১ থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে ৫২টি এন্ট্রি নথিভুক্ত করেছে। এর মধ্যে ৪৭টি সরাসরি ঘটনা এবং পাঁচটি প্রাতিষ্ঠানিক বা ডকুমেন্টেশন-সংক্রান্ত এন্ট্রি ছিল।
নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে মুসলিমদের ওপর হামলা, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হয়রানি, ধর্মীয় স্থাপনা বা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, গরু বা গোমাংস-সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে সহিংসতা এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মতো বিভিন্ন ধরনের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসের পরিস্থিতি নিয়ে সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইনের ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকারও মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার একটি পৃথক হিসাব প্রকাশ করে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ধর্মীয় বিদ্বেষজনিত ঘটনায় অন্তত ৪৪ জন মুসলিম নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড এবং ২৫ জনের মৃত্যুর সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী হামলাকারীদের সম্পৃক্ততা নথিভুক্ত করেছে তারা। মে থেকে জুলাই—এই তিন মাসে ২৫ জন মুসলিম নিহত হন। তাদের হিসাবে ১৫ জন রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় এবং ১০ জন হিন্দুত্ববাদী অ-রাষ্ট্রীয় হামলাকারীদের ঘটনায় নিহত হয়েছেন। একই সময়ে মুসলিমদের বাড়িঘর ও ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ বা ধ্বংসের ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে।
আগস্ট মাসের ঘটনাগুলো নিয়ে প্রকাশিত আরেকটি সংকলনে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম সাত মাসেই ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার পাশাপাশি বহু মুসলিম বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ বা ধ্বংসের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। সেখানে জুন-জুলাইয়ের বিভিন্ন ঘটনার পাশাপাশি পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু, কথিত সংঘবদ্ধ হামলা, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উজ্জয়নের শাহী মসজিদ নিয়ে সাম্প্রতিক বিরোধও এই বৃহত্তর বিতর্কের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে মসজিদের একটি অংশ অপসারণ নিয়ে মুসলিমদের প্রতিবাদ, পুলিশি পদক্ষেপ এবং আদালতের সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিরোধ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে মুসলিম অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ধর্মীয় স্থাপনা রক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
মুসলিম মিররের আগস্টের ৫৪টি ঘটনার হিসাব এবং অন্যান্য পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য—দুটিই তাই ভারতের ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে। ঘটনার সংখ্যা নিয়ে উৎসভেদে পার্থক্য থাকলেও, আগস্ট ২০২৬-এর ঘটনাগুলোকে ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন ডেটাবেসের একটি অভিন্ন বৈশিষ্ট্য হলো—মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ধর্মীয় বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং ধর্মীয় স্থাপনা-সংক্রান্ত বিরোধের একাধিক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
সূত্র: মুসলিম মিরর, দ্য কুইন্ট ও দ্য নিউকমরেড