ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা ভারতের জাতীয় পতাকা - ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচি রয়েছে শুক্রবার বিকেলে। ওই কর্মসূচি ঘিরে কড়া অবস্থান নিয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। ভারতের তিন রঙা জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে পথে নামার ডাক দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
কেন এই কর্মসূচী?
সিজেপির এই কর্মসূচির সূত্রপাত যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং দলের নেতাদের গ্রেফতারের ঘটনাকে ঘিরে।
১৩ই অক্টোবর সিজেপি নেতা সৌরভ দাস, আজিঙ্কা শিন্ডে এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে স্লোগান দিচ্ছিলেন তারা। ঠিক তার আগের দিনই পুলিশ জানিয়েছিল যন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ কর্মসূচি করা যাবে না। তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।
অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আজ রাতে বা আগামীকাল সকালে দিল্লি পুলিশ আমাকে তুলে নিয়ে যেতে পারে। এই দেশে তেরঙ্গা ওড়ানোর জন্য যদি জেলে যেতে হয়, তাহলে আমরা তার জন্যও প্রস্তুত।’
যন্তর মন্তরের মতো একটা জায়গা, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে সেখানে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং পুলিশ-প্রশাসনের সমালোচনা করেই শুক্রবারের কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি।
তবে গত সপ্তাহ থেকেই বেশ উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে দিল্লি। শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। পুলিশ-প্রশাসন যদিও এর অনুমতি দেয়নি। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন হবে বলে জানানো হয়। বামপন্থি ছাত্র-যুব সংগঠনগুলো-সহ অন্যান্য বিজেপি-বিরোধী সংগঠনও ওই বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল।
এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। শনিবার বিমানে চেপে দিল্লিতে অবতরণ করার পরই বিমানের ভেতর থেকেই অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
শনিবার আটক করা হয়েছিল ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পিনারাই বিজয়ন এবং মানিক সরকারসহ বহু রাজনৈতিক নেতাকে।
গত রোববারও দিল্লিতে বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে। ১০ ও ১১ই অক্টোবর মিলিয়ে অন্তত তিন হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়, আটক করা হয় একাধিক সাংবাদিককেও। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছিল যে সেদিন অন্তত সাত হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে পুলিশ আটক করেছিল।
পুলিশি ধরপাকড়ের সময় এবং হেফাজতে থাকাকালীন মারধরের অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আইনজীবীদের উপরেও পুলিশি হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।
এরপর ১২ই অক্টোবর সিজেপির পক্ষ থেকে সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অন্যান্যরা দিল্লি পুলিশের কাছে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে বসার জন্য দিন স্থির করে দেওয়ার আবেদন জানায়। এর জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়ও বেঁধে দেয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে সেই দিনই দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে যন্তর মন্তর এতদিন প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য পরিচিত ছিল, তা সেখানে আর বিক্ষোভ কর্মসূচি করা যাবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত। তার বদলে রামলীলা ময়দান বুরারি মাঠ, পূর্ব দিল্লির সিবিডি- এই তিনটা জায়গায় কর্মসূচি পালন করা যাবে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভের আগুন বাড়তে থাকে।