ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ নামে পরিচিত এই অনলাইন আন্দোলনটি মূলত জেন জি প্রজন্মের তরুণদের অংশগ্রহণে গড়ে উঠেছে। আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে একটি তেলাপোকাকে। খবর ভারতীয় গণমাধ্যমের।
মঙ্গলবার রাতেই দলটির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছায়। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই সংখ্যা বেড়ে ৩০ লাখ অতিক্রম করে। দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ায় এটি এখন ভারতের অনলাইন অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৫ মে। সেদিন ভারতের প্রধান বিচারপতি একটি মামলার শুনানিতে জাল ডিগ্রি ও বেকারত্ব প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে কিছু যুবককে “পরজীবী” ও “তেলাপোকা”-র সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, কিছু তরুণ চাকরি না পেয়ে মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা আরটিআই কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে সবাইকে আক্রমণ করছে।
এই মন্তব্যের পরদিনই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, “সব তেলাপোকা একজোট হলে কেমন হয়?” এরপর থেকেই আন্দোলনটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।
ইনস্টাগ্রাম, এক্সসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তরুণরা নিজেদের ‘তেলাপোকা’ পরিচয়ে মিম, পোস্ট ও ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট শেয়ার করতে শুরু করেন। ভারতের কয়েকজন বিরোধী রাজনীতিক এবং সাবেক সরকারি কর্মকর্তাও অনলাইনে এই দলে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
যদিও অনেকে এই আন্দোলনকে নেপাল ও বাংলাদেশের জেন জি আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করছেন, তবে অভিজিৎ দীপক স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের কোনো সরকারবিরোধী বা সরকার পতনের পরিকল্পনা নেই।
একটি পোস্টে তিনি বলেন, ভারতের তরুণ প্রজন্মকে এ ধরনের তুলনার মাধ্যমে অপমান করা উচিত নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের যুবসমাজ যথেষ্ট সচেতন, পরিণত এবং রাজনৈতিকভাবে অবগত। তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের মত প্রকাশ করবে।
এরই মধ্যে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ তাদের নির্বাচনী প্রতীকও প্রকাশ করেছে, যা একটি তেলাপোকা। পাশাপাশি দলটি জানিয়েছে, তাদের তথাকথিত সদস্যসংখ্যা ইতোমধ্যে সাড়ে তিন লাখ ছাড়িয়েছে। সদস্যদের নিয়ে শিগগিরই প্রথম ভার্চুয়াল সম্মেলনেরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।