হোম > বিশ্ব > ভারত

পুরস্কারের গন্ধ পেলেই ছুটে যান মোদি

কূটনৈতিক রিপোর্টার

ফাইল ছবি

পুরস্কারের প্রতি তার দুর্বলতার কথা সারা দুনিয়া জানে। পুরস্কারের মান কী, কারা দিচ্ছেন, তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। পুরস্কারের পেছনে ছুটতে থাকা এই ব্যক্তি আর কেউ নন, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পুরস্কারের গন্ধ পেলেই তিনি ছুটে যান পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। পুরস্কার আনার পাশাপাশি ভ্রমণ করতেও তিনি দারুণ পছন্দ করেন। নরেন্দ্র মোদির প্রাপ্তির তালিকায় বেশ কয়েকটি পুরস্কার রয়েছে, যেগুলোর প্রথম ও একমাত্র প্রাপক তিনিই।

সর্বশেষ সেশেলস থেকে পাওয়া ‘গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন’ পুরস্কারটি নরেন্দ্র মোদিকে এক চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। এ পুরস্কারের সনদপত্রে বানান ভুলসহ নানা অসংগতি রয়েছে। বিষয়টি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। এ নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপেরও শেষ নেই। ব্রিটেনের বিখ্যাত দ্য গার্ডিয়ানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ প্রতিবেদন। কঠোর সমালোচনা আর উপহাসে লিপ্ত ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নরেন্দ্র মোদিকে রীতিমতো তাচ্ছিল্য করে বলেছে, তাকে যেকোনো পুরস্কার দিন, তিনি ছুটে আসবেন।

দ্য গার্ডিয়ান এবং দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ভ্রমণকালে পুরস্কার সংগ্রহ করার অভ্যাস আছে, যার মধ্যে কয়েকটির তিনিই প্রথম এবং একমাত্র প্রাপক। সপ্তাহান্তে নরেন্দ্র মোদি সেশেলসে অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গেই ভারত মহাসাগরের এ দ্বীপপুঞ্জটি দ্রুত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে তাদের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা প্রদান করে।

মোদি ২৭ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত এক সরকারি সফরে সেশেলসে ছিলেন। তিনি এ পুরস্কার গ্রহণ করেন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইরত দেশগুলো ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি এটি উৎসর্গ করেন। সেশেলসের রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক হারমিনির কাছ থেকে ট্রফি ও সনদপত্রসহ ‘গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন’ পুরস্কার গ্রহণ করার সময় মোদি বেশ হাসিমুখেই ছিলেন ।

কিন্তু পর্যবেক্ষকরা শিগগির লক্ষ করেন, পুরস্কারটি নিয়ে বেশকিছু অসংগতি রয়েছে। সনদপত্রে ‘republic’ বানানটি ভুল করে ‘repubblic’ এবং এমনকি ‘Seychelles’ বানানটিও ভুল করে ‘Seycheeles’ লেখা হয়েছে। ২৮ জুন রাতে ফ্যাক্ট চেকার মোহাম্মদ জুবায়ের ‘এক্স’-এ লেখেনÑ‘এটি OPVS, OPUS নয়। এটি Republic, Repubblic নয়। এটি Seychelles, Seycheeles নয়।’ পরে জানা যায়, পুরস্কারটি মোদির আসার মাত্র তিনদিন আগেই চালু করা হয়েছিল এবং তিনিই ছিলেন এর প্রথম ও একমাত্র প্রাপক।

এ হট্টগোলের মধ্যে, সফটওয়্যারে যাচাই করার পর সার্টিফিকেটটি ব্যাপকভাবে এআই-সৃষ্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়। এটি এআই টুল ব্যবহার করে তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা হয়েছে । এতে একটি ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করা হয়েছিল, যা থেকে বোঝা যায় যে এটি ওপেনএআই-এর ছবি তৈরির টুল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

মোদির ‘গার্ডিয়ান অফ দ্য ব্লু হরাইজন’ পুরস্কারটি তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচক ও বিরোধী নেতারা কথিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) তৈরি এ সার্টিফিকেটকে উপহাস করেছেন এবং এর সময় নিয়েও সমালোচনা করেছেন । কারণ তার সফরের মাত্র কয়েকদিন আগে সম্মাননাটি তড়িঘড়ি করে অনুমোদন করা হয়েছিল।

বিরোধী কংগ্রেস দল দ্রুত এ বিতর্কে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলেছে, মোদিকে যেকোনো পুরস্কার দিন, তিনি দৌড়ে আসবেন। কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, তারা এতটাই তাড়াহুড়ো করছিল, ফলে সেশেলস প্রজাতন্ত্রের সরকারি নামটিও ভুল লিখে ফেলেছে।

তবে মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পাল্টা জবাব দিয়ে বলেছে, তার সবুজ নেতৃত্বের জন্য এ পুরস্কার গ্রহণ করা ভারতের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত। বৃহস্পতিবার সেশেলসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভুলবশত একটি খসড়া প্রচারিত হয়েছিল এবং এখন একটি যথাযথভাবে অনুমোদিত’ সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে।

মোদি তার ১২ বছরের শাসনামলে দেশে ও বিদেশে পুরস্কার গ্রহণের প্রতি এক উল্লেখযোগ্য ঝোঁক দেখিয়েছেন। গত মাসে তার ইসরাইল সফরের কয়েকদিন আগে দেশটির সংসদ দ্রুত ‘মেডেল অব দ্য নেসেট’ নামে একটি পদক তৈরি করে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী ইসরায়েলের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান। মোদি দেশটিতে অবতরণ করার পর তাঁকে এই পদকটি প্রদান করা হয়। এখন পর্যন্ত তিনিই এর একমাত্র প্রাপক।

২০১৯ সালে মোদি ভারতের ফিলিপ কোটলার রাষ্ট্রপতি পুরস্কারেরও প্রথম প্রাপক হন, যা প্রধানমন্ত্রীকে তার জাতির অসামান্য নেতৃত্বের জন্য প্রদান করা হয়। সরকারের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এই সম্মাননাটি প্রতি বছর একজন রাষ্ট্রনেতাকে প্রদান করার কথা ছিল। তবে, এরপর থেকে অন্য কোনো নেতাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়নি এবং এর ওয়েবসাইটটিও নিষ্ক্রিয় রয়েছে।

ব্যক্তিগতভাবে এটা স্বীকৃত যে, মোদির বিদেশ সফরকালে প্রশংসা ও পুরস্কার একটি প্রত্যাশায় পরিণত হয়েছে। তার জীবনীকার নীলঞ্জন মুখোপাধ্যায় বলেছেন, নরেন্দ্র মোদিকে পুরস্কৃত করার জন্য বিশ্বব্যাপী যেই আগ্রহ সেটা প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিত্ব দ্বারা পরিচালিত রাজনীতিরই একটি লক্ষণ ।

তিনি বলেন, এ পুরস্কারগুলো সংগ্রহের পেছনের উদ্দেশ্য হলোÑ তার দলের নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য সমর্থকদের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়া, মোদি তার মহত্ত্বের কারণেই বিশ্বজুড়ে সম্মানিত হচ্ছেন এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মূলে রয়েছে তার ব্যক্তিত্ব।

বিগত বছরে মোদি প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ইথিওপিয়ার ‘গ্রেট অনার নিশান’ এবং ‘অর্ডার অব দ্য রিপাবলিক অব ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো’ লাভ করেছেন। বিজেপি বলছে, এ পুরস্কারগুলো মোদির আন্তর্জাতিক মর্যাদার স্বীকৃতি।

ঢাবিতে বাংলা শেখায় আগ্রহ বাড়ছে চীনা শিক্ষার্থীদের

থানা কম্পাউন্ডে আহত ৮ গরু জবাই, স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন

কৃষিজমির মাটি কাটা বন্ধে মুরাদনগর প্রশাসনকে হাইকোর্টের নির্দেশ

শাহজালাল বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ কুশসহ দুই ভারতীয় আটক

তিনদিন সাগরে ভেসে অবশেষে উদ্ধার ১৬ জেলে

দেশজুড়ে বৃষ্টি বাড়ার আভাস, থাকবে ভ্যাপসা গরম

জুলুম করে কেউ চিরস্থায়ী হতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না: উসামা

সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব গভীর করতে চায় চীন

নীতিমালা প্রকাশ, একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর

নবনিযুক্ত ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এনডিসি ক্যাপস্টোন ফেলোদের সৌজন্য সাক্ষাৎ