হোম > বিশ্ব > ভারত

কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে মামলা

এনডিটিভি

মার্কিন তদন্তে দেখা গেছে বিষ্ণোইয়ের গ্যাংটি একটি 'আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধী চক্রে' পরিণত হয়েছিল। তারা হরদীপ সিং, সিধু মুসওয়ালাসহ অসংখ্য হত্যা সাথে জড়িত, এমনকি সালমান খানের বাড়িতে গুলি চালিয়েছিল এই বিষ্ণোই। ছবি: এনডিটিভি

কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই ২০১৫ সাল থেকে ভারতের কারাগারে বন্দি আছেন। কারাবন্দি থেকেও তিনি ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) ৩৩ বছর বয়সি বিষ্ণোই এবং তার ছয় সহযোগীর বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগপত্র বা ইনডাইটমেন্ট প্রকাশ করেছে। এতে তাদের বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজি, নিষিদ্ধ মাদক পাচার এবং মানব পাচারের মতো মারাত্মক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে উন্মোচিত এই নথিতে বিষ্ণোইয়ের চক্রটিকে ‘বিষ্ণোই অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ’ বা ‘বিষ্ণোই ওসিজি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই চক্রের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধগুলোর একটি হলো কানাডায় খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড। এছাড়া বলিউড অভিনেতা সালমান খানের বাড়িতে গুলি বর্ষণ, পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক গিপ্পি গ্রেওয়ালের ওপর হুমকি এবং গায়ক সিধু মুসওয়ালার হত্যাকাণ্ডের ‘আদেশ ও নির্দেশনা’ দেওয়ার পেছনেও এই চক্রটিকে দায়ী করা হয়েছে।

একটি বৈশ্বিক অপরাধ চক্র

মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিষ্ণোই অপরাধ চক্রের সদস্যরা ভারত এবং ভারতের বাইরের প্রবাসী জনগোষ্ঠীর বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের টার্গেট করে আসছিল।

মার্কিন তদন্তে দেখা গেছে, বছরের পর বছর ধরে বিষ্ণোইয়ের এই সিন্ডিকেটটি একটি ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রে’ রূপ নিয়েছে। এর মূল সদর দপ্তর ভারতে হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর সক্রিয় সদস্য রয়েছে।

তদন্তে আরো উঠে এসেছে যে, কারাগারে বন্দি থাকা সত্ত্বেও বিষ্ণোই সেখানে চোরাই পথে আনা মোবাইলফোন এবং অন্যান্য ইন্টারনেট ভিত্তিক যোগাযোগ প্রযুক্তি (ভিওআইপি ডিভাইস) ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে তার সহযোগীদের সরাসরি নির্দেশনা দিয়ে আসছিলেন।

অভিযোগপত্রে উত্তর আমেরিকায় সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রার এবং ইউরোপে রোহিত গোদারাকে বিষ্ণোইয়ের প্রধান দলনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সুখরাজ সিং কাং ভারতে এই সিন্ডিকেটের প্রধান সহযোগী বা লেফটেন্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন। এছাড়া রাজন ভাট্টি, ভুলওয়ান এবং সুমিত নামের আরো তিন ব্যক্তি এই চক্রের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে নথিতে নাম এসেছে।

বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট অভিযোগসমূহ

হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড

মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, বিষ্ণোই এবং গোল্ডি ব্রার ২০২৩ সালের ১৮ জুন ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সুরিতে গুরু নানক শিখ গুরুদুয়ারা মন্দিরের বাইরে খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে চারজন যুক্ত ছিলেন এবং তাদের মধ্যে দু’জন সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন।

সিধু মুসওয়ালা হত্যাকাণ্ড

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ২৯ মে পাঞ্জাবের মানসায় বিশিষ্ট ভারতীয় গায়ক ও র‌্যাপার সিধু মুসওয়ালাকে হত্যার পেছনে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হাত ছিল। পরে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই গ্যাং হত্যাকাণ্ডের আদেশ দেওয়ার কথা স্বীকারও করেছিল। কংগ্রেস নেতা সিধু মুসওয়ালার আসল নাম ছিল শুভদীপ সিং সিধু। পাঞ্জাবের মানসা জেলার জওহারকে গ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।

সালমান খানের বাড়িতে গুলি

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিষ্ণোই বহুবার ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব সালমান খানকে হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এর জের ধরে ২০২৪ সালের এপ্রিলে সালমানের বাসভবনে হামলা চালানো হয়। মূলত ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের মামলাকে কেন্দ্র করে এই গ্যাং বছরের পর বছর ধরে সালমান খানকে নানা হুমকি দিয়ে আসছিল।

গিপ্পি গ্রেওয়াল মামলা

২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর অভিনেতা ও গায়ক গিপ্পি গ্রেওয়ালের (রূপিন্দর সিং গ্রেওয়াল) বাসভবনে গুলি চালানোর দায় স্বীকার করেছিলেন বিষ্ণোই। ২৫ নভেম্বর একটি ফেসবুক পোস্টে বিষ্ণোই লিখেছিলেন, ‘আমাদের হাত থেকে তোমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।’

অভিযোগপত্র থেকে আরো জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে এই গ্যাংটি গ্রেওয়াল ও তার ম্যানেজারের সাথে বারবার যোগাযোগ করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।

সুনীল যাদব হত্যাকাণ্ড

অন্যান্য মামলার মধ্যে মার্কিন বিচার বিভাগ ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার স্টকটনে মাদক পাচারকারী সুনীল যাদব হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও উল্লেখ করেছে।

নথিতে দেখা গেছে, গোল্ডি ব্রার এবং রোহিত গোদারা বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ফেসবুকে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। সেখানে তারা লিখেছিলেন, ‘আমাদের সব শত্রুরা প্রস্তুত থেকো, তোমরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই পৌঁছাও না কেন, আমরা সেখানে পৌঁছে যাব।’

এএম

কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য ফ্রান্সে গ্রেপ্তার

শিশু ধর্ষণ-হত্যা ঘিরে বিক্ষোভে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

পিছনে তাকালেই গুলি, যেভাবে অন্ধকারে পুশইন করে বিএসএফ

ভারতে প্রতিদিন বন্ধ হচ্ছে ১৩ স্কুল

ভারতে ভারী বর্ষণে ১০ জনের প্রাণহানি

পশ্চিমবঙ্গে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগে গির্জায় হামলা, ক্ষুব্ধ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়

ভারতে বন্যার পানিতে ভেসে গেল ৩ হাজার গ্যাস সিলিন্ডার

ট্রাম্পের এক শব্দে ভারতের আট লাখ কোটি রুপি হাওয়া

এনকাউন্টারে নিহত পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণের মূল অভিযুক্ত, ‘উত্তরপ্রদেশ মডেল’ বলছে বিরোধীরা

মুসলিম মেয়ে মরেছে বলেই এত আন্দোলন, মন্তব্য মন্ত্রী দিলীপের