হোম > বিশ্ব > ভারত

রামমন্দিরের অর্থ চুরির দায়ে গ্রেফতার ৮

আমার দেশ অনলাইন

ভারতের অযোধ্যার রামমন্দির। ছবি: এনডিটিভি

ভারতের অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট বা এফআইআর-এর নামধারী আটজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার অযোধ্যার স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন লভকুশ মিশ্র, অনুকল্প মিশ্র, অবিনাশ শুক্লা, মনীশ যাদব, রামশংকর যাদব ওরফে তিন্নু, সুভাষ চন্দ্র শ্রীবাস্তব এবং করুণেশ পান্ডে।

তাদের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’র অধীনে চুরি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীও রয়েছেন।

মামলার এজাহার বা এফআইআর অনুযায়ী, এই আসামিরা মন্দিরে ভক্তদের দান করা নগদ টাকা এবং মূল্যবান জিনিসপত্র গণনার প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিলেন।

কর্মকর্তাদের অভিযোগ, আসামিরা মন্দির প্রাঙ্গণে বসানো দানবাক্স থেকে সংগ্রহ করা দানের টাকা আত্মসাৎ বা অপব্যবহার করেছেন।

তবে উত্তর প্রদেশের বিরোধী দলগুলো এই এফআইআর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই, ট্রাস্টের সদস্য ড. অনিল মিশ্র বা মন্দির নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনা ইনচার্জ গোপাল রাওয়ের মতো বড় বড় মানুষদের ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রক্ষা করছে বা আড়াল করছে।

এফআইআর-এর বিষয়ে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দেওরিয়ায় এক জনসভায় বলেন, সরকার বিশেষ তদন্ত দল বা এসআইটি রিপোর্টের ভিত্তিতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘অযোধ্যা আমাদের সবার বিশ্বাসের প্রতীক, শ্রী রাম যে মর্যাদা বা ডিসিপ্লিন মেনে চলতেন তা অনুসরণ করতে শিখুন। আমি বলেছিলাম এসআইটি রিপোর্ট আসার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসআইটি রিপোর্ট এসেছে এবং ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।’

বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘যারা আজ আপত্তি তুলছেন, তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। এরা তারাই যারা ভগবান রামকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তারা বলত রামের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। এই লোকেরা অযোধ্যাকে অস্বীকার করে আসছিল। এরা সেই একই লোক যারা শ্রী রামের ওপর গুলি চালিয়েছিল, এখন আপনারা আমাদের বিশ্বাসের কথা বলবেন?’

উত্তর প্রদেশ সরকার কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দলের (এসআইটি) প্রাথমিক তদন্তের পর ২৬ জুন শুক্রবার এই এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। লক্ষ্ণৌ বিভাগের কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্ত এই তদন্ত দলের প্রধান ছিলেন।

শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের উদ্যোগে এই এফআইআরটি দায়ের করা হয়। উত্তর প্রদেশ সরকারের গঠিত এসআইটি-র প্রাথমিক রিপোর্টের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মামলাটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৬ ধারা (মালিকের অধীনে থাকা সম্পত্তি কেরানি বা চাকর দ্বারা চুরি), ৩১৬ ধারা (অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ), ৩১৭ ধারা (অসৎ উদ্দেশ্যে চুরি করা সম্পত্তি গ্রহণ) এবং ৬১ ধারা (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) সহ অন্যান্য বিধানের অধীনে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

রাম মন্দিরে দানের টাকা আত্মসাতের এই বিতর্কটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত ৭ জুন। এরপর শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের অনুরোধে উত্তর প্রদেশ সরকার গত ১৩ জুন একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করে। এই তদন্ত দল গত ২৩ জুন সরকারের কাছে তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেয়। এসআইটি-র সুপারিশের ভিত্তিতে ২৫ জুন রাতে এফআইআর নথিভুক্ত করা হয় এবং শুক্রবার অযোধ্যা পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

গত ৭ জুন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এই বিষয়টি উত্থাপন করার পর থেকেই কিছু আসামির নাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচ) এবং আম আদমি পার্টিও (এএপি) ফৌজদারি মামলা দায়েরের দাবি জানালে এটি একটি বড় রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুভাষ চন্দ্র শ্রীবাস্তব টাকা গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের দায়িত্বে ছিলেন। অন্য আসামিরা নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র গণনার সাথে বা বিভিন্নভাবে এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিলেন।

এফআইআর-এ নাম থাকা রাম শঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু যাদব ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের প্রাক্তন ড্রাইভার বা গাড়িচালক ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তিন্নু টাকা গণনার কাজে তার কোনো ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করেছেন এবং নাম প্রকাশ না করে কিছু ঈর্ষান্বিত মানুষকে এই অভিযোগের জন্য দায়ী করেছেন।

লভকুশ মিশ্র এবং অনুকল্প মিশ্রসহ অন্য আসামিরাও মন্দিরে দান হিসেবে পাওয়া নগদ টাকা এবং মূল্যবান জিনিসপত্র গণনার কাজে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্র সহ ট্রাস্টের সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পিটিআই সফল হতে পারেনি।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্বোধনের পর থেকেই রামমন্দিরে বিপুল পরিমাণ অনুদান আসছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী:

২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট আয়: প্রায় ৩২৭ কোটি রুপি।

সরাসরি অনুদান: ১৫৩ কোটি রুপি।

ব্যাংক সুদ বাবদ আয়: ১৭৩ কোটি রুপি।

দৈনিক দর্শনার্থী: ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার জন (ছুটির দিনে যা ২ থেকে ৩ গুণ বৃদ্ধি পায়)।

অর্থ গণনার জন্য স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়াকে (এসবিআই) দায়িত্ব দিয়েছিল ট্রাস্ট। ব্যাংকটি আবার এই কাজের জন্য একটি বেসরকারি সিকিউরিটি এজেন্সিকে নিযুক্ত করে। প্রতিদিন চারটি বড় দানবাক্সের টাকা গণনার জন্য ১৪ জনের একটি দল কাজ করে, যার মধ্যে ১১ জন ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং ৩ জন ট্রাস্টের সদস্য থাকেন।

মন্দিরের ক্যাম্প অফিস ইন চার্জ প্রকাশ গুপ্ত সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে জানিয়েছেন, কাউন্টারে সরাসরি রসিদের মাধ্যমে যে অনুদান নেওয়া হয়, সেখানে কোনো গরমিল পাওয়া যায়নি। মূলত দানবাক্সগুলোতে ভক্তদের সরাসরি ফেলা টাকা গণনার সময়ই এই বিশাল চুরির ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র: দ্য হিন্দু, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

এএম

সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউয়ের নাম পাল্টানো নিয়ে বিরক্ত গোপাল পাঁঠার নাতি

পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে চাকরি হারালেন এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট

ভারতে মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংস করছে বিজেপি, কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ওয়াইসি

জাহেদ উর রহমানের ভ্রমণ প্রসঙ্গে মুখ খুলল ভারত

সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউর নাম পরিবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্কে শুভেন্দু

খ্যাতিমান সোহরাওয়ার্দীকে বাদ দিয়ে গণহত্যাকারীর নামে সড়ক

মমতাকে তৃণমূল থেকে অপসারণের ঘোষণা বিদ্রোহীদের, অভিষেকও বরখাস্ত

ভারতে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৪

মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংসের জেরে ভারতে আন্দোলনে নামছে মুসলিমরা

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ককরোচ পার্টির অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি