গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিহারের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় রেখে ‘উপযুক্ত সিদ্ধান্ত’ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ)-এর জাতীয় কার্যকরী সভাপতি ও বিহার রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝাকে লেখা এক চিঠিতে এই আশ্বাস দেন তিনি।
ফারাক্কা ব্যারেজে শুষ্ক মৌসুমের পানি প্রবাহ ব্যবস্থাপনার জন্য ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদী এই চুক্তির মেয়াদ এ বছর ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে।
গত ৬ আগস্ট রাজ্যসভায় ‘স্পেশাল মেনশন’ এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি পুনবায়নের সময় বিহারের স্বার্থ সুরক্ষার দাবি জানিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গেই ২৮ আগস্ট ঝাকে চিঠি লেখেন জয়শঙ্কর।
চিঠিতে জয়শঙ্কর লেখেন, ‘গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আপনার উদ্বেগ আমরা সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারছি।’ তিনি জানান, ‘পানিশক্তি মন্ত্রণালয়ে নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। চুক্তিটির বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনার লক্ষ্যেই এই আলোচনা করা হয়।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট ও ৩০ অক্টোবর এবং ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ ও ৩১ মে অনুষ্ঠিত পরামর্শ বৈঠকগুলোতে বিহার সরকারের একজন অনুমোদিত প্রতিনিধিও অংশ নেন। সেখানে বিহারের পানীয় জল ও শিল্পক্ষেত্রে পানির প্রয়োজনীয়তাসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও চাহিদা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।
চিঠিতে জয়শঙ্কর বলেন, ‘এই সব বিষয় মাথায় রেখেই সরকার উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
কেন্দ্রের এই আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়ে ঝা বলেন, এটি বিহারের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সন্তোষের বিষয়। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের বিবেচনাপ্রসূত জবাবের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, গঙ্গার পানি চুক্তি নিয়ে ভারত সরকার যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তাতে বিহারের স্বার্থ সম্পূর্ণ এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে বিবেচনা করা হবে।’
ঝা বলেন, ‘বিহার কোনো অনুগ্রহ চাইছে না। আমাদের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নে যে পরিমাণ পানির প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে, আমরা শুধু সেটুকুই চাইছি। যাতে আরো ৩০ বছরের জন্য ১৩ কোটি মানুষ পানীয় জল, সেচ ও শিল্পক্ষেত্রে পানির জোগানের ঘাটতির মুখে না পড়েন।’
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
আরএ