ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের গাজা নীতি এবং এ বিষয়ে ‘নীরবতা’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সোনিয়া গান্ধী। এক মতামত নিবন্ধে তিনি অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনের প্রতি ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থান থেকে সরে এসে সরকার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে তার এই মন্তব্যকে বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি।
নিজের নিবন্ধে সোনিয়া গান্ধী বলেন, ২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর থেকে ইসরাইলের সামরিক অভিযানে গাজা ব্যাপক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তিনি জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে দাবি করেন, ইসরাইল গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সংঘাতে ২০ হাজারের বেশি শিশু নিহত এবং প্রায় ৪৪ হাজার শিশু আহত হয়েছে।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তারও সমালোচনা করেন। তার দাবি, ক্রমবর্ধমান প্রমাণ ও বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া সত্ত্বেও বিশ্ব সম্প্রদায় সংঘাত বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
ভারত সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে সোনিয়া গান্ধী বলেন, গাজায় বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে নয়াদিল্লি কার্যত নীরব রয়েছে। তার মতে, এই নীরবতা শুধু নৈতিকভাবে নিন্দনীয়ই নয়, বরং ভারতের জাতীয় স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকেও অযৌক্তিক। তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনের দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থান থেকে সরে আসা দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সরকারকে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে সোনিয়া গান্ধীর এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। দলটির মুখপাত্র শেখজাদ পুনাওয়ালা অভিযোগ করেন, কংগ্রেস বরাবরের মতোই পররাষ্ট্রনীতিকে ‘ভোটব্যাংকের রাজনীতির’ সঙ্গে মিশিয়ে ফেলছে।
তিনি বলেন, গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারত একাধিকবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং মানবিক সহায়তাও পাঠিয়েছে। জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাবে ভারতের ভোট এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফিলিস্তিনের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা লাভের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
শেখজাদ পুনাওয়ালার দাবি, কংগ্রেস অতীতে ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহ দেখায়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলটি হামাসের হামলার নিন্দা না করলেও গাজার মুসলিমদের পক্ষে সরব হয়।
সূত্র: এনডিটিভি
এআরবি