হোম > বিশ্ব > ভারত

নীতিগত কৌশল বদলেছে মোদিবিরোধীরা, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তুলছে না প্রশ্ন

টাইমস অব ইন্ডিয়া

ভারতের ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেও এর সাংবিধানিক ও আইনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে না বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা যৌথ আবেদনে জোটটি বরং সংশোধন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কথিত অনিয়মের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা আবেদনে জানিয়েছেন, বিহারে এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তারা এই প্রক্রিয়ার বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন না।

কেন বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে না বিরোধীরা?

বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে করা একটি মামলায় গত ২৭ মে সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা, প্রক্রিয়াটির উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট আইনের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য পর্যালোচনা করে। আদালত তখন জানায়, মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ব্যক্তি ও একই ব্যক্তির একাধিক নিবন্ধন শনাক্ত করে ভোটার তালিকা নির্ভুল করার লক্ষ্যের সঙ্গে এই কার্যক্রমের যৌক্তিক সম্পর্ক রয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এসআইআর কার্যক্রম জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক নয়। পাশাপাশি, কার্যক্রমটি প্রয়োজনীয় আনুপাতিকতার শর্ত পূরণ করেছে এবং নির্বিচারে ভোটারের নাম বাদ পড়া ঠেকাতে যথেষ্ট প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা রয়েছে বলেও মত দেয় আদালত।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনা বা সংশোধনের আবেদন না হওয়ায় সেটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে এসআইআরের সামগ্রিক বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার পরিবর্তে বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিচ্ছে বিরোধী জোট।

ভোটারের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে আপত্তি

এসআইআর প্রক্রিয়ার বৈধতা মেনে নেওয়ার অর্থ অবশ্য এর প্রতিটি পদক্ষেপকে সমর্থন করা নয়। বিরোধীদের অভিযোগ, সংশোধন কার্যক্রমের সময় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তাই সুপ্রিম কোর্টে তাদের আবেদনের মূল লক্ষ্য হলো, ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনিয়ম হয়েছে কি না এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভোটাররা ন্যায্য প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা।

বিরোধীদের এই অবস্থানের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি।

নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ

এসআইআর পরিচালনার ক্ষমতার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ২১(৩) ধারার কথা উল্লেখ করেছিল। ওই ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কারণ নথিভুক্ত করে নির্বাচন কমিশন বিশেষ পদ্ধতিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের নির্দেশ দিতে পারে।

আদালত আরো বলেছিল, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে শুধু ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা যথাযথ হলেই চলে না; নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য ভোটার তালিকাও অপরিহার্য। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের নামে কোনো ভোটার যাতে অন্যায্যভাবে তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের বর্তমান আইনি লড়াই তাই প্রক্রিয়াটির বৈধতার চেয়ে এর প্রয়োগে সম্ভাব্য অনিয়ম, ভোটারদের অধিকার এবং প্রতিকার পাওয়ার সুযোগকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।

পুরো প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করার চেষ্টা করছেন মোদি: মমতা

শিক্ষার্থীদের ওপর নজিরবিহীন দমন-পীড়নের পর মোদি বললেন, ভারত গণতন্ত্রের জননী

তিন দশক পর দিল্লিতে সংকুচিত গণতান্ত্রিক পরিসর

মাঝ আকাশে বোমাতঙ্ক, এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ

ককরোচ নেতাদের গ্রেপ্তারে রাহুল গান্ধীর নিন্দা

দিল্লির বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য শহরেও, ব্যাপক ধরপাকড়

গঙ্গায় নৌকাডুবিতে ১৩ জনের মৃত্যু

যন্তর মন্তরে অবৈধ অনুপ্রবেশ, ককরোচের ৩ নেতা গ্রেপ্তার

মোদির মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী

বিরোধী দলের নেতাদের চায়ের আমন্ত্রণ রাহুল গান্ধীর