হোম > বিশ্ব > ভারত

উগ্রবাদী শুভেন্দুদের বিজয়ে বাংলাদেশে শঙ্কার মেঘ

এম আবদুল্লাহ

‘ইসরাইল যেভাবে গাজাবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে, বাংলাদেশিদের সেভাবে শিক্ষা দেওয়া উচিত।’ এমন উগ্র আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করার চার মাসের মাথায় পশ্চিমবঙ্গে গদিনশিন হচ্ছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু শুভেন্দু অধিকারী। যদিও মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা চূড়ান্ত হয়নি। তবে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছেন শুভেন্দু। মমতা ব্যানার্জিকে কুপোকাত করে রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট ছিনিয়ে নিচ্ছেন তিনি। শুভেন্দু বাবুর এর আগে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী তিনি বিশ্বাস করেন— ‘বাংলাদেশকে এখন চালাচ্ছে পাকিস্তান। এখনই না রুখতে পারলে বাংলাদেশ পুরো পাকিস্তানের হাতে চলে যাবে।’

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ঢাকার মিত্র শেখ হাসিনার পতন ও পালিয়ে ভারতে আশ্রয়গ্রহণের পর শুভেন্দুর কাছে খবর ছিল—‘ঢাকা থেকে তিন লাখ হাতেটানা রিকশা রওনা দিয়েছে কলকাতা দখল করার জন্য।’ এমন আজগুবি খবরের ফেরিওয়ালা, কট্টর ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা পশ্চিমবঙ্গের চালকের আসনে বসাটা প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্যে অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্বশীল পদে থেকেও তিনি ধারাবাহিকভাবে শিষ্টাচারবর্জিত আক্রমণাত্মক বক্তব্য ও তৎপরতা দেখিয়েছেন, যে কারণে কলকাতায় বিজেপির অভাবনীয় উত্থান ঢাকার আকাশে শঙ্কা ও দুর্ভাবনার মেঘ কালো ছায়া ফেলছে।

অবশ্য তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে যে দলই ক্ষমতায় যাক বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক এখন পর্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে ঢাকা-দিল্লি উষ্ণ সম্পর্কের মধ্যেও সীমান্তবর্তী ভারতীয় প্রাদেশিক সরকারগুলোর বৈরী ও উগ্রবাদী আচরণ বাংলাদেশকে নিদারুণভাবে ভুগিয়েছে।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী একদা আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি সাফল্য পেলেও পশ্চিমবঙ্গে শক্ত ভিত্তি গড়তে পারছে না। এটা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টের। দেশটির প্রয়াত এ সরকার প্রধানের আক্ষেপ এবার ঘুঁচলো। দুই শতাধিক আসন জয় করে প্রথমবারের মতো বাংলায় ক্ষমতার মুখ দেখলো কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে গতকাল সন্ধ্যায় নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেনÑ‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অগণিত কর্মীর প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই রেকর্ড জয় সম্ভব হতো না।’

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ইতিহাস গড়া নিরঙ্কুশ বিজয় এবং গেরুয়া পতাকা ওড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার নতুন জাতীয়তাবাদী সরকার কতটা অস্বস্তিতে পড়বে তা দেখার জন্য হয়তো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কটা বরাবরই সংবেদনশীল। ক্ষমতার পালাবদলে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানে বিশ্বাসী বাংলাদেশের নাগরিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ও উদ্বিগ্ন হওয়ার অনেক কারণ বিদ্যমান। ভারতে বিজেপিশাসিত অন্য রাজ্য সরকারগুলো যেভাবে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি তীব্র ঘৃণার চর্চা করে তা থেকে মমতার পশ্চিবঙ্গ অনেকটাই মুক্ত ছিল।

কেন্দ্রের বিজেপি শাসকদের আশকারায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম নিধন ও নিপীড়নের মধ্যেও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ও নিকট প্রতিবেশী বাংলা ভাষাভাষী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ধর্মীয় উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেননি। সংখ্যালঘু মুসলমানদের একরকম আগলে রেখেছিলেন তিনি। মূলত ২০১৬ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান শুরু হয়। সে বছর দলটি মাত্র তিনটি আসন পেলেও পরবর্তী সময়ে দ্রুত শক্তি বাড়ায়। ২০২১ সালে তারা ৭৭টি আসন পায়। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে শুভেন্দুর নেতৃত্বে প্রতিনিয়ত পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় ও বাংলাদেশ নিয়ে উসকানি দিয়েছেন। বাংলাদেশ মিশনে বারবার হামলা করেছে। হুমকি-হুঙ্কার দিয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে। আর এবারের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি যে আরো অবনতি ঘটবে না, তা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার বসার ফলে সীমান্তের দুপাশের জনগণের মধ্যে উত্তেজনা ও অস্থিরতা বাড়বে। পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানেরা আরো অনিরাপদ হয়ে পড়বেন। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের মধ্যেও নানামাত্রিক প্রভাবের শঙ্কা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে বড় অংকের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যের পরিধিও ব্যাপক। পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে যে বাণিজ্য প্রবাহ, তা দুদেশের সীমান্তবর্তী মানুষের আর্থসামাজিক লাভের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিজেপি সরকার যদি সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি আরোপ করে, তাহলে এ বাণিজ্যিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে দিল্লির অনুগত সরকারের পতনের পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় ও বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী যে আগ্রাসী ও চরম উসকানিমূলক ভূমিকা নিয়েছিলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তার আংশিক জারি রাখলেও দু’দেশের সরকার ও জনগণের মধ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। শুভেন্দু তার দলের হিন্দুত্ববাদী আদর্শ অনুসরণ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতি কাজে লাগিয়ে সীমান্তে ব্যাপক মাত্রার অস্থিরতা তৈরি করতে পারেন, এমন আশঙ্কা করছেন বিভিন্ন মহল। বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভিত্তিহীন প্রোপাগাণ্ডা চালিয়ে ড. ইউনূস সরকারকে প্রায় ফেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল শুভেন্দুরা। পশ্চিমবঙ্গের মিডিয়াগুলো বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচারে উলঙ্গভাবে ঝাঁপিয়ে পড়লেও মমতা সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকায় দুদেশের সম্পর্কে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশন বিধানসভার ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের ৬০ লাখেরও বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। বাদ দেওয়া ওই ভোটারদের বলা হচ্ছে, তারা বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী। বাদপড়াদের বড় অংশই মুসলিম। নির্বাচনে মততার তৃণমূল কংগ্রেসের জন্যে এটা যে বড় ধরনের ফাঁড়া হয়ে দেখা দেবে তা আগেই অনুমান করা হয়েছিল। এ নিয়ে কয়েক মাস ধরে তীব্র বিতর্ক চলছিল বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে। তৃণমূল বলছিল, বাদ পড়ারা তৃণমূলের ভোটার এবং মোদি সরকার বেছে বেছে বিশেষ গোষ্ঠীর (মুসলিম জনগোষ্ঠীর) লোকদের বাদ দিয়েছে।

মমতা ব্যানার্জি বিষয়টি নিয়ে দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের কাছে বিচার চেয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট একটি বড় আকারের বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। বিজেপি ক্ষমতায় আসার কারণে নাগরিকত্বের অমীমাংসিত প্রশ্নগুলো প্রবলভাবে সামনে আসার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভূরাজনীতির বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, যদিও নির্বাচন কমিশন জোর দিয়ে বলেছে যে, ভোটার তালিকা সংশোধন নাগরিকত্বের কোনো পরীক্ষা নয়, তবুও বিজেপির রাজনৈতিক স্লোগান ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষকে শঙ্কিত করছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ঐতিহ্যগতভাবে প্রায় ২৭ শতাংশ মুসলিম ভোটার তৃণমূল কংগ্রেসের বড় শক্তির জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। এবারের নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে ৫৪টিকে মুসলিম অধ্যুষিত আসন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের সময় বিবিসির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কথিত ‘বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের’ নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশে সংশোধন কার্যক্রম চালানো হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয় সে অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে বাদপড়া ৬০ লাখ এবং বিবেচনাধীনসহ সাকূল্যে বাদ পড়েন প্রায় এক কোটি ভোটার। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব যেসব আসনে বেশি পড়েছে এমন আসন ৯৪টি। গতকালের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সংশোধনের আগে, অর্থাৎ ২০২১ সালের নির্বাচনে এসব অঞ্চলে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাপ্ত আসন ছিল ৭২টি। এবার পেয়েছে মাত্র ৩০টি। বিপরীতে গত নির্বাচনের ২২টির বিপরীতে বিজেপি এবার পেয়েছে ৬৩টি।

এছাড়া মতুয়া অধ্যুষিত ১১টি আসনের ভোটের ফলাফলে এবার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিজেপি ১০টিই ধরে রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির একটি বড় ভোটব্যাংক।

ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ও প্রক্রিয়াধীন মোট এক কোটি মানুষ বাংলাদেশের জন্যে বিপদের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আসামসহ ভারতের অন্যান্য বিজেপিশাসিত অঞ্চলে গত এক বছরে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে কাগজপত্র না থাকার অজুহাতে অবৈধ ঘোষণা করে দলে দলে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এখন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার একই পথে হাটলে তা বাংলাদেশের জন্য মহাবিপদের কারণ হবে নির্ঘাত। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৬০ লাখ পশ্চিমবঙ্গবাসীকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশটিতে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার আসামে হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো কথিত ‘অবৈধদের’ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে পারেন।

শুভেন্দুর রাজনৈতিক গুরু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গত মাসে কুচবিহারে প্রচারের সময় বলেছিলেন যে, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ নাম সরালে বিজেপি তাদের ‘বাংলার মাটি’ থেকেই সরিয়ে দেবে। তার এ বক্তব্য লাখ লাখ মানুষের মনে ভয়ের সৃষ্টি করছে, আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যাদের আবেদন ট্রাইব্যুনালে অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে আছে তারা এখন চরম অনিশ্চিত জীবনের মুখে পড়বেন।

শুভেন্দু অধিকারীর শাসনে পুশ ইনের ব্যাপকতার পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপর নানাভাবে প্রভাব বিস্তারে বা চাপ প্রয়োগে নতুন মাত্রা যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত নতুন করে অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে উসকে দেওয়ার আভাস শুভেন্দু দিয়েছেন বিরোধী নেতার আসনে বসেই। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ১ তারিখে শুভেন্দু যে বক্তব্য দেন, তা বাংলাদেশের জন্য বড় বিপদের বার্তা দেয়। ওইদিন যাদবপুরে এক বক্তব্যে শুভেন্দু বলেন, ‘মমতার সরকার বিএসএফকে জমি দেয়নি। বিজেপি ক্ষমতায় আসলেই এক মাসের মধ্যে জমি দেবে বিএসএফকে। এক কোটি রোহিঙ্গাকে খুঁজে খুঁজে বের করে বাংলাদেশে পাঠাব’। ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি করা বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে একই দিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আদানি চাইলে এক্ষুনি বাংলাদেশের ৮০ ভাগ অন্ধকারে ডুবে যাবে। প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান এবং বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। ফালাকাটা, গার্ডেনরিচের বদলা আমরা নেব।’

তৃণমূলের পনেরো বছরের শাসনে মমতা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কখনো কোনো উৎসাহ দেখাননি। সেটা ছিল বাংলাদেশের জন্য মহার্ঘ্য। শেখ হাসিনার সঙ্গেও তার আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের বাইরে কোনো গলাগলি ছিল না। অভ্যুত্থানের পর সীমান্ত পাড়ি দেওয়া বিপুলসংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতা ও হাসিনা-ঘনিষ্ঠ সাবেক সামরিক-বেসমারিক কর্মকর্তা কেন্দ্রীয় সরকারের অতিথি হয়ে এখন পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করছেন। মমতা ব্যানার্জি তাদের থেকেও অনেকটা দূরত্ব বজায় রেখেছেন। খুব বেশি আশকারা দেননি।

পক্ষান্তরে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিরন্তর উসকানি দেওয়া ছাড়াও ভারতের সামরিক ক্ষমতার বড়াই ও আস্ফালন করেছেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শুভেন্দু বাংলাদেশকে তাচ্ছিল্য করে বলেন, ‘অতি বাড় বেড়ো না, ঝড়ে ভেঙে যাবে। পিপিলিকার পাখা গজায়, মরিবার তরে। ভারত এখন তৃতীয় সামরিক শক্তিশালী দেশ। বাংলাদেশ জানে না, আমাদের সেনা পাঠানোর দরকার হবে না। আমরা এখন ড্রোনে এত বেশি উন্নত, তা জানেই না বাংলাদেশ। ভারতের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙলে, পাঁচ-সাত ড্রোন পাঠিয়ে দিলেই সব শেষ। লাদেনের থেকেও খারাপ অবস্থা হবে।’

শুভেন্দু হুঙ্কার দিয়ে আরো বলেন, আমাদের বালুরঘাট সীমান্তে, ওরা কতগুলো ট্যাংক নিয়ে এসেছিল। নিয়ে এসে খড়গাদা দিয়ে সাজিয়েছিল। আমাদের ট্যাংক লাগে না। ট্যাংক দিয়ে যুদ্ধ হয় না। ওরা ১৯৬০-৭০ সালে আছে। বন্দুকে যুদ্ধ হয় না। ম্যানপাওয়ার লাগে না। পাঁচটি ড্রোন শুধু পাঠাবে ভারত। এরা এখনো ভারতের শক্তি সম্বন্ধে জানে না। এখানে ফোর্ট উইলিয়াম থেকে প্রেস করবে, ওখানে ধপাধপ চলে যাবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী না হয়ে অন্য কেউ হলে বাংলাদেশের জন্যে কিছুটা স্বস্তিকর হবে কি না, তা দেখতে সরকার গঠন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। নির্বাচনের আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার জোর দিয়ে বলেছিলেন, বিজয়ী হলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন বাঙালিই হবেন।

বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে হতে পারেনÑএ প্রশ্নের উত্তরে সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। তারা হলেনÑবর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্য বিজেপির সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার, সাবেক সাংবাদিক ও রাজ্যসভার সাবেক সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত প্রমুখ। নিকট প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে নয়া মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্কটা অতটা উষ্ণ হয়তো হবে না, তবে তিক্ত ও হিমশীতল না হওয়াই কাম্য।

প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন

টিকার পরও ভয়াবহ হাম, প্রশ্নের মুখে ব্যবস্থাপনা

এআই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ

চীনে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাত

কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক স্থগিত করলেন ট্রাম্প

মন্তব্য প্রতিবেদন: কার্যকর সম্পর্কের জন্য ‘সাইডলাইনে’ নয়, পারস্পরিক সফর জরুরি

ফ্যাসিবাদ উত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দায়

কলকাতায় হোটেলের আগুন নিয়ে নানা প্রশ্ন, উত্তর নেই

গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনা বানচাল করতে চান নেতানিয়াহু: হামাস

লাইভ টিভিতে মাঞ্জরেকার-কার্তিকের তর্ক, কথার লড়াইয়ে ছড়াল অস্বস্তি