হোম > বিশ্ব > ভারত

২৩ সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম আবদুল বারেক ৪ মাস ধরে নিখোঁজ

আমার দেশ অনলাইন

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরে পুলিশ বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার প্রায় চার মাস পরও আবদুল বারেকের কোনো সন্ধান পাচ্ছে না তার পরিবার। তিনি কোথায় আছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে কি না কিংবা তাকে কোনো আদালতে হাজির করা হয়েছে কি না—কোনো প্রশ্নেরই উত্তর পরিবারের কাছে নেই। মানবাধিকারকর্মী কীর্তি রায় এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

গত ২ জুন দুপুরে রায়গঞ্জ থানার অধীন ভাটোল ফাঁড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একদল পুলিশ উত্তর দিনাজপুরের গোপালপুর, বাইলিয়ামোর পানুয়াপাড়া এলাকায় বারেকের বাড়িতে যায়। পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় নথি তুলে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ এসব নথি নিয়ে কোনো রসিদ না দিয়ে বারেককে পরিবারের সদস্যদের সামনে আটক করে এবং একটি পুলিশ গাড়িতে করে ভাটোল ফাঁড়ির দিকে নিয়ে যায়।

পরিবারের দাবি, তাকে কেন আটক করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের স্পষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। দেওয়া হয়নি কোনো গ্রেপ্তার মেমোও। এরপর থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে পরিবারকে আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বারেকের স্ত্রী-সন্তানসহ প্রায় ২৩ সদস্যের পরিবারের জীবিকা মূলত তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। তিনি মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং জমিজমার মালিক। তার অনুপস্থিতিতে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে।

মানবাধিকারকর্মী কীর্তি রায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রায়গঞ্জ থানার ইনচার্জের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি ই-মেইলের মাধ্যমে জানাতে বলেন। এরপর বারেকের গ্রেপ্তার ও বর্তমান অবস্থান জানতে থানার সরকারি ই-মেইলে চিঠি পাঠানো হলেও অভিযোগ দায়েরের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে রায় দাবি করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২ জুন রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের যে তালিকা পাওয়া গেছে, সেখানে বারেকের নাম দেখা যায়নি। এ কারণে মানবাধিকারকর্মী প্রশ্ন তুলেছেন—যদি পুলিশ তাকে আটক করে ভাটোল ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে তার গ্রেপ্তার ও হেফাজতের সরকারি নথি কোথায়?

বারেকের পরিবারের কাছে তার আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড এবং আঞ্চলিক পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ইস্যু করা ভারতীয় পাসপোর্ট থাকার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশি যাচাইয়ের পর তার পাসপোর্ট ইস্যু হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তিনি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তবে এসব নথি থাকার অর্থ এই নয় যে তার নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো আইনগত তদন্ত হতে পারে না—এ কথাও অভিযোগকারী স্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, যদি তাকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে সন্দেহ করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।

বারেকের পরিবার আশঙ্কা করছে, তাকে হয়তো অবৈধভাবে ভারত থেকে সরিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। তবে অভিযোগে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এটি পরিবারের আশঙ্কা; তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য তাদের কাছে নেই। মানবাধিকারকর্মীও বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগে জানতে চাওয়া হয়েছে, বারেকের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর বা মামলা হয়েছে কি না, তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ কে দিয়েছিল, কোন পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করেছিলেন এবং তার কাছ থেকে নেওয়া পরিচয়পত্রের কোনো সরকারি রেকর্ড রয়েছে কি না। তাকে কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়েছিল কি না, কোনো মামলায় রিমান্ড নেওয়া হয়েছিল কি না এবং তাকে অন্য কোনো থানা, আটককেন্দ্র বা সরকারি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে কি না—এসব তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

কীর্তি রায় ভারতের সংবিধানের ১৪, ২১ ও ২২ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্য, সমতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গ্রেপ্তার ও আটকসংক্রান্ত সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তিনি গ্রেপ্তার ও হেফাজতসংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের ‘ডি কে বসু বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার’ মামলার নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেছেন।

ঘটনার স্বাধীন তদন্তের জন্য তিনি এফআইআর, জেনারেল ডায়েরি, গ্রেপ্তার রেজিস্টার, স্টেশন ডায়েরি, হেফাজত রেজিস্টার, গ্রেপ্তার মেমো, পরিচয়পত্র জব্দের নথি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য রেকর্ড পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন। বারেককে কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়ে থাকলে সেই নথিও প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, বারেক যদি এখনও কোনো সরকারি হেফাজতে থাকেন, তাহলে তার অবস্থান ও আইনগত মর্যাদা পরিবারকে অবিলম্বে জানাতে হবে এবং তাকে সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। আর যদি তাকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের আইনগত ও প্রমাণভিত্তিক ভিত্তিও প্রকাশ করতে হবে।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে আটক ও সীমান্তের ওপারে পাঠানোর অভিযোগ ঘিরে একাধিক ঘটনা নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠেছে। সেপ্টেম্বরে কলকাতা হাইকোর্টও একজনকে বাংলাদেশি সন্দেহে দীর্ঘদিন আটকে রাখার বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল।

আবদুল বারেকের ক্ষেত্রে অবশ্য এখন পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বা তিনি কোনো নির্দিষ্ট মামলায় আটক রয়েছেন—এমন সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে এই ঘটনার মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে তার বর্তমান অবস্থান, আইনি মর্যাদা এবং তাঁকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর হেফাজতের কোনো সরকারি রেকর্ড রয়েছে কি না।

মানবাধিকারকর্মী কীর্তি রায়ের অভিযোগের মূল দাবি তাই শুধু বারেকের পরিবারের জন্য নয়, আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার প্রশ্নও সামনে এনেছে। চার মাস ধরে একজন ব্যক্তির অবস্থান সম্পর্কে তার পরিবারকে নিশ্চিত তথ্য না দেওয়ার অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি প্রকাশই এখন ঘটনার প্রকৃত অবস্থা পরিষ্কার করতে পারে।

সূত্র: মাকতুব মিডিয়া

ভারতে মুসলিমবিরোধী হেট ক্রাইম বাড়ছে

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে মমতার কঠোর হুঁশিয়ারি

১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ, তীব্র আস্থা সংকটে ভারতের নির্বাচন কমিশন

অরুণাচল সীমান্তে বিদ্রোহীদের হামলা, ভারতীয় সেনা নিহত

ভারতে আধা-সামরিক বাহিনীর ৪ সদস্যকে গুলি করে হত্যা

পাকিস্তানের আকাশসীমায় বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, বিপদে ভারত

ভারত-ইসরাইলের তৈরি অস্ত্রে নৃশংসতার শিকার গাজা-কাশ্মীর

গাজা অভিযানের সময় ইসরাইলকে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ দিয়েছিল ভারত

‘গরু পশু নয়, আমাদের মা, যারা গরুকে পশু হিসেবে দেখেন, তাদের চিন্তা পশুসুলভ’

বায়ুদূষণ মোকাবিলায় দিল্লিতে চালু হচ্ছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’