পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এ উপলক্ষে বিরোধী দলনেতার দপ্তর তার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে এবং স্পিকার রথীন্দ্র বসু তাকে দপ্তরের চাবি হস্তান্তর করেছেন।
ঋতব্রত দাবি করেছেন, তৃণমূলের নির্বাচিত বিধায়কদের দুই-তৃতীয়াংশ তার নেতৃত্বের পক্ষে একত্রিত হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন ইতোমধ্যে সমর্থন জানিয়েছেন এবং আরও দুজনের সম্মতি রয়েছে। তারা রাজ্যের বাইরে থাকলেও সমর্থনপত্র পাঠালে এই সংখ্যা ৬০-এ পৌঁছাবে।
নতুন বিরোধী দলনেতা জানান, বিধানসভায় সরকারপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন তারা। একই সঙ্গে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসাও করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঋতব্রত আরও জানান, আখরুজ্জামানকে মুখ্য সচেতক এবং জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা ও সন্দীপন সাহাকে ডেপুটি লিডার হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত সমর্থনপত্র ইতোমধ্যে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলের পরামর্শদাতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন ঋতব্রত। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক সম্পর্ক কার্যত নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের সূত্রপাত ঘটে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য পাঠানো একটি চিঠিতে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা বিষয়টি বিধানসভা কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন বলে জানা গেছে।
পরে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং তদন্ত শুরু করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ। তদন্তের অংশ হিসেবে একাধিক বিধায়কের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনা তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে এটি পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বুধবার ঋতব্রত যখন বিধানসভায় নতুন রাজনৈতিক অবস্থানের কথা ঘোষণা করছিলেন, তখন কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। ফলে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
এসআর