হোম > বিশ্ব > ভারত

ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের আস্থা পুনর্গঠনে দিল্লিকে পরামর্শ ভারতের সাবেক জেনারেলের

আমার দেশ অনলাইন

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি শুধু কূটনৈতিক সমস্যা নয়; এটি ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। দিল্লির উচিত উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে অর্থনৈতিক কূটনীতি, পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আস্থা পুনর্গঠন করা।

সাউথ এশিয়া মনিটরে ২৯ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত ‘ডাউনটার্ন ইন ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ রিলেশনশিপস নিডস ডেফট হ্যান্ডলিং: ঢাকাস এলিয়েনেশন হ্যাজ সিকিউরিটি ফলআউটস ফর ইন্ডিয়া’ শীর্ষক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে ভারতের সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল প্রকাশ চন্দ কাটোচ এসব মন্তব্য করেন। তিনি আরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্ট উল্লেখ করেনÑ

১. শেখ হাসিনা ইস্যু সম্পর্কের বড় বাধা

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর তার ভারতে অবস্থান এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণ দাবি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বড় সংকট তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত চেয়েছে; অন্যদিকে ভারত বলছে, শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ তার নিজের সিদ্ধান্ত।

২. পানি বণ্টন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ

তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। একই সঙ্গে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ দিকে শেষ হওয়ার কথা। এই চুক্তির নবায়ন আটকে থাকলে দুই দেশের পানি ও কৃষি নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হতে পারে।

৩. বাংলাদেশের চীনমুখী কৌশল নিয়ে ভারতের উদ্বেগ

বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ছে। লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনরুজ্জীবন এবং তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ চীনের জে-টেনসি যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে।

৪. পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও ভারতের নজরে

বাংলাদেশ পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর ফলে ভারতের পূর্ব সীমান্তে একটি নতুন বহুমাত্রিক কৌশলগত পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি সামরিক সক্ষমতা, তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং চীনা সামরিক সরঞ্জামের সমন্বয়কে তিনি ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখেছেন।

৫. সীমান্ত সমস্যা

৪,০৯৬ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অবৈধ পারাপার, চোরাচালান ও সীমান্ত সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সাম্প্রতিক পুশ-ইন এবং সীমান্তে বিএসএফ-বিজিবি বিরোধেও সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।

৬. বাণিজ্যে সম্ভাবনা থাকলেও বাধা রয়েছে

ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রতা, ট্রানজিট ফি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং নন-ট্যারিফ বাধা অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনাকে সীমিত করছে। এসব বাধা দূর করে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত সমাধান হিসেবে নিবন্ধের শেষাংশে বেশ কিছু বাস্তবধর্মী উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে— যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক নিয়মিত করা; তিস্তা নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন, তথ্যভিত্তিক চুক্তি করা; বন্যা ও নদীর পানি ছাড়ার বিষয়ে আগাম তথ্য বিনিময়; বিএসএফ-বিজিবির নিয়মিত স্থানীয় পর্যায়ের বৈঠক; সীমান্ত হাট বাড়ানো; বাণিজ্যের নন-ট্যারিফ বাধা কমানো; সিইপিএ আলোচনা পুনরায় শুরু করা; চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা; থিংকট্যাংক, সাংবাদিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ট্র্যাক-টু সংলাপ বাড়ানো।

নিবন্ধটি একজন অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনা কর্মকর্তার বিশ্লেষণ ও ব্যক্তিগত মতামত। ফলে চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা এবং ভারতের নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে তার মূল্যায়নকে সরাসরি নিরপেক্ষ বা সর্বসম্মত তথ্য হিসেবে না দেখে ভারতীয় নিরাপত্তা-দৃষ্টিভঙ্গির একটি বিশ্লেষণ হিসেবে পড়তে হবে। নিবন্ধের শেষেও লেখকের মতামতকে ব্যক্তিগত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নিবন্ধটি ভারতকে পরামর্শ দিচ্ছে- বাংলাদেশকে শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, অর্থনীতি, পানি, সীমান্ত ও জনগণের যোগাযোগের মাধ্যমে আবার আস্থার জায়গায় আনতে হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের ওপর চাপ প্রয়োগের চেয়ে সম্পর্ক মেরামতের কূটনীতিই ভারতের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা স্বার্থে বেশি কার্যকর।

সূত্র: সাউথ এশিয়া মনিটর

মেয়াদ শেষে ৭৫ শতাংশ সংস্কার বাকি, সিলেট-ছাতকে ট্রেন চলাচলে অনিশ্চয়তা

চীনের বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্প্রসারণের সেতু আফগান সীমান্তের ওয়াখান করিডর

দেওয়ানগঞ্জে ৫ মেট্রিকটন অবৈধ সার জব্দ

মক্কা প্যাক্টের ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করা হবে

নেপাল-তিব্বতে মৃত ছাড়াল ১০০০, নিখোঁজ ৪৪৬২

চার যুগে বিএনপি, জিয়াউর রহমান থেকে তারেক রহমান

সাগর-রুনি হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম এখনই প্রকাশ করা উচিত নয়

বাগাতিপাড়ায় মেরামত কাজ শেষে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

স্পেয়ার পার্টসের নামে কনটেইনারে মিলল ১২ কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানি ও চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক