হোম > বিশ্ব > ভারত

দিল্লিতে মসজিদ উচ্ছেদে ছিন্নভিন্ন জনপদ, অনিশ্চয়তায় ৭১৭ পরিবার

বিবিসি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির অভিজাত এলাকায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদকে কেন্দ্র করে কয়েক প্রজন্ম ধরে গড়ে উঠেছিল শত শত পরিবারের জীবন। মসজিদটির চারপাশে বসবাসকারী এসব মানুষের বাড়িঘর সম্প্রতি উচ্ছেদ করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে যেমন বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৭১৭টি পরিবার, অন্যদিকে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মসজিদটির প্রবেশাধিকারও সীমিত করা হয়েছে। ফলে মসজিদটির ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বিবিসির দিল্লি প্রতিনিধি জোয়া মতিনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ঐতিহাসিক মসজিদ, উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর জীবনসংগ্রাম এবং নতুন আবাসনে তাদের নানা সংকটের চিত্র। প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে।

নয়াদিল্লির রেসকোর্স এলাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মসজিদটি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে খুব বেশি দূরে নয়। রাজধানীর অন্যতম অভিজাত ও কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এই এলাকায় সামরিক স্থাপনা, বিলাসবহুল ক্লাব এবং বড় বড় বাংলোর মাঝখানে ছোট ছোট বাড়িতে বসবাস করতেন নিম্ন আয়ের কয়েক শ পরিবার। তাদের অনেকেই কয়েক প্রজন্ম ধরে সেখানে ছিলেন। আশপাশের অভিজাত বাড়িগুলোতে গাড়িচালক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও বাগান পরিচর্যাকারী হিসেবে কাজ করেই চলত তাদের সংসার।

গত ৭ অক্টোবর ওই এলাকার তিনটি বসতিতে উচ্ছেদ অভিযান চালায় কর্তৃপক্ষ। সরকারি জমিতে অবৈধভাবে বাড়িঘর নির্মাণের অভিযোগ তুলে সেগুলো ভেঙে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি বসতি থাকায় নিরাপত্তাঝুঁকির কথাও জানায় সরকার। অভিযানে ৭১৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করে রাজধানীর উপকণ্ঠে সাভদা ঘেভরা নামের একটি আবাসন এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। রেসকোর্স থেকে এলাকাটির দূরত্ব প্রায় ৩১ মাইল।

উচ্ছেদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন বাসিন্দারা। তাদের যুক্তি ছিল, কর্মস্থল, সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং দীর্ঘদিনের পরিচিত সামাজিক পরিবেশ থেকে এত দূরে সরিয়ে নিলে তাদের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তবে গত আগস্টে আদালত সরকারের নিরাপত্তাসংক্রান্ত যুক্তি গ্রহণ করেন। পাশাপাশি বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থানান্তরের অনুমতি দেন।

উচ্ছেদ অভিযানে ঐতিহাসিক মসজিদটি এবং কাছের একটি হিন্দু মন্দির অক্ষত রাখা হয়েছে। তবে ৭ অক্টোবর মসজিদ দুটির পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর থেকে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সাধারণত মুসল্লিদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে অনুরোধ জানালে কখনো কখনো কয়েকজনকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

মসজিদটির জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। সরকারের দাবি, মসজিদটি যে জমিতে অবস্থিত, সেটির মালিক রাষ্ট্র। অন্যদিকে মসজিদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ১৯৭৭ সালে জমিটি ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। ইসলামী আইন অনুযায়ী ধর্মীয় বা দাতব্য কাজে উৎসর্গ করা জমি বা স্থাপনাকে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি বলা হয়। দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ডের দাবি, মসজিদটির বয়স প্রায় ৩০০ বছর। তবে অন্য কিছু হিসাবে এর বয়স ১২৫ থেকে ১৫০ বছরের মধ্যে। স্থাপনাটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকাতেও রয়েছে।

মসজিদটির পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ড। পাশাপাশি নামাজ আদায়ে বাধা এবং মসজিদটি ভেঙে ফেলার আশঙ্কা জানিয়ে একজন মুসল্লিও হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।

গত ২৯ অক্টোবর আদালতে সরকার জানায়, ওয়াক্‌ফ বোর্ডের আপত্তি পর্যালোচনা করার সময় মসজিদটির বিরুদ্ধে আগামী চার সপ্তাহ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে উচ্ছেদ ও নির্মাণকাজ চলার কারণে নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সেখানে নামাজ আদায়ের জন্য প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের বিরোধিতা করে সরকার। মুসল্লিদের আইনজীবী এ যুক্তির বিরোধিতা করেন। শেষ পর্যন্ত আদালত এ পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করেননি এবং পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন ১৬ ডিসেম্বর।

মসজিদটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা থাকলেও সেখানে বসবাস করা পরিবারগুলোর কাছে এখন বড় প্রশ্ন—দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা জীবন থেকে হারানো কতটুকু ফিরে পাওয়া সম্ভব।

৫০ বছর বয়সী গাড়িচালক মোহাম্মদ ওয়াসিমের পরিবারের সঙ্গে এই এলাকার সম্পর্ক কয়েক প্রজন্মের। তার বাবা এই মসজিদেই বিয়ে করেছিলেন। কয়েক দশক পর একই মসজিদে বিয়ে হয়েছে তাঁর মেয়ের। এখন বাড়িঘর হারিয়ে ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে নিজের পুরোনো জীবনের স্মৃতি খুঁজে ফেরেন তিনি।

ওয়াসিম জানান, সুযোগ পেলেই এখনো মসজিদে নামাজ পড়তে যান। তবে অনেক সময় নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে ফিরিয়ে দেন। সম্প্রতি এক বিকেলে মসজিদের ভেতরে মাত্র চার-পাঁচজন মুসল্লিকে দেখা যায়। বাইরে জেনারেটরের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল।

ওয়াসিম বলেন, তাদের হৃদয় ও পুরো জীবন এই জায়গার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। শৈশব কেটেছে এখানে খেলাধুলা করে। তাই এত স্মৃতি জড়িয়ে থাকা জায়গা ছেড়ে দেওয়া তাদের জন্য সহজ নয়।

রেখা নামের এক স্বামীহারা নারীও পুরোনো বসতির স্মৃতি ভুলতে পারছেন না। আশপাশের বাড়িতে থালাবাসন ধোয়ার কাজ করে তিনি সংসার চালাতেন। পাশাপাশি স্থানীয় মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজও করতেন। কিন্তু উচ্ছেদের পর তার আগের কাজ হারিয়ে গেছে। ১৯ বছর বয়সী ছেলেও নতুন এলাকায় কাজ খুঁজে পাচ্ছে না। অস্ত্রোপচারের পর তার পায়ে ধাতব রড বসানো হয়েছে। ফলে নতুন বাসার তিনতলায় ওঠানামা করাও তার জন্য কষ্টকর।

পুনর্বাসন নিয়ে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে রেখা বলেন, কয়েক দশক ধরে গড়ে তোলা একটি জীবনকে কীভাবে উপড়ে নিয়ে অন্য কোথাও নতুন করে গড়ে তোলা সম্ভব? তার ভাষায়, বাড়ি হয়তো পেয়েছেন, কিন্তু নিজের ঘর হারিয়েছেন।

দিল্লিতে উচ্ছেদ ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা নতুন নয় বলে মনে করেন নগরায়ণ ও আবাসনবিষয়ক সমালোচকেরা। তাঁদের মতে, জমির বৈধ মালিকানার কাগজপত্র দেখাতে না পারায় নিম্ন আয়ের মানুষকে বারবার শহরের কেন্দ্র থেকে দূরবর্তী এলাকায় সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে তাঁরা শুধু কর্মসংস্থানই হারান না, দীর্ঘদিনের সামাজিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ে।

নগর গবেষক মুক্তা নায়েক বলেন, এ ধরনের স্থানান্তরের ফলে মানুষ কর্মস্থল ও সামাজিক যোগাযোগব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে জীবিকা ও আয় কমে আসে। পরিবারগুলো কাজের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ায় আগে যে অনানুষ্ঠানিক সহায়তার নেটওয়ার্ক ছিল, তা আবার গড়ে তোলাও কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত পরিবারগুলোকে নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেরাই করতে হয়।

দিল্লি সরকারের আবাসন সংস্থা, স্থানীয় পৌর কাউন্সিল এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমি কার্যালয়ের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়েছিল বিবিসি। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানই সাড়া দেয়নি।

নতুন আবাসনে গিয়েও পুরোনো জীবনের টান

বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে যে সাভদা ঘেভরায় পাঠানো হয়েছে, সেই এলাকাটিরও রয়েছে দীর্ঘ পুনর্বাসনের ইতিহাস। ২০০৬ সালে দিল্লি থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর আবাসনের জন্য হরিয়ানা সীমান্তের কাছে কৃষিজমির ওপর এলাকাটি গড়ে তোলা হয়। প্রথম দিকে সেখানে বসবাস শুরু করা মানুষজন রাস্তা, পানি কিংবা বিদ্যুৎ—কোনো মৌলিক সুবিধাই পাননি। পরে ধীরে ধীরে বাড়িঘর নির্মাণ, দোকানপাট স্থাপন এবং নাগরিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে জনপদটি গড়ে ওঠে। ২০২০-এর দশকের শুরুর দিকে সেখানে আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল।

এবার রেসকোর্স থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোও সেখানে নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছে। দিল্লির সবুজে ঘেরা অভিজাত সড়ক ও পুরোনো বসতির পরিবর্তে এখন তাদের থাকতে হচ্ছে প্রায় একই রকম দেখতে সারি সারি কংক্রিটের ভবনে। চারপাশে বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ। জীবনযাত্রা কোনোভাবে চললেও তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুই রয়ে গেছে শহরের অন্য প্রান্তে।

এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ বাবলুর পরিবার। প্রতিদিন ভোর ৫টায় সন্তানদের নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। পুরোনো এলাকার স্কুলে সন্তানদের পৌঁছে দিতে মেট্রোরেলে তিনবার ট্রেন বদলাতে হয়। স্কুল ছুটি হতে প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাকে। এ সময় সাবেক বসতির বাইরে একটি চায়ের দোকানে বসে থাকেন। কোনো দিন বাবলুর কাজ থাকলে তাঁর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন।

বাবলুর ভাষ্য, নতুন আবাসন থেকে সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আবার ফিরে আসা সম্ভব নয়। স্কুল ছুটির পর সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে বিকেল প্রায় ৪টা বেজে যায়।

আগে রেসকোর্স এলাকার একটি ক্লাবে কাজ করতেন বাবলু। বর্তমানে দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মিরাট শহরে কাজ পেয়েছেন তিনি। বাসিন্দারা জানতেন, একসময় তাদের এলাকা ছাড়তে হতে পারে। তবে তাদের আশা ছিল, এমন কোথাও পুনর্বাসন করা হবে, যেখান থেকে পুরোনো কর্মস্থল ও সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।

সরকারের দাবি, রেসকোর্সের কাছাকাছি উপযুক্ত আবাসন পাওয়া যায়নি। আদালতে সাভদা ঘেভরার স্কুল, চিকিৎসাকেন্দ্র ও যোগাযোগব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে সরকার বলেছে, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর বসবাসের জন্য এলাকাটিতে প্রয়োজনীয় সুবিধা রয়েছে।

তবে এসব সুবিধা নিয়েও সন্তুষ্ট হতে পারছেন না ৬৩ বছর বয়সী নাঈম খান। তার দুই নাতির শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধিতা রয়েছে। তাদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রয়োজন হলেও নতুন এলাকায় সেই ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

উচ্ছেদের পর নাঈমের পরিবারও ছড়িয়ে পড়েছে। তার এক ছেলে ও বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া এক মেয়ে এক কক্ষের ছোট বাসায় তাঁর সঙ্গে থাকছেন। জায়গার অভাবে অন্য দুই ছেলেকে আলাদা থাকতে হচ্ছে।

নাঈম বলেন, তাদের জীবন যেন ২০ বছর পিছিয়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি সংকটে নারীরা

উচ্ছেদের পর নারীদের জীবন ও কর্মসংস্থানে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। নগর গবেষক মুক্তা নায়েকের মতে, শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্ব, যাতায়াতের খরচ এবং নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে নারীদের জন্য দূরে গিয়ে কাজ করা বিশেষভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে।

রেসকোর্স এলাকায় আশপাশের অভিজাত বাড়িগুলোতে কাজের সুযোগ ছিল। কেউ বাসাবাড়িতে থালাবাসন ধুতেন, কেউ বাগান পরিচর্যা করতেন। আবার কেউ ফেলে দেওয়া পানির বোতল সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। এসব ছোট ছোট কাজ থেকেই অনেক পরিবারের নিত্যদিনের খরচ চলত। নতুন আবাসনে এসে সেই আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে।

আখতারি নামের এক বয়স্ক স্বামীহারা নারী আগে প্রতিদিন প্রায় ১০০ রুপি আয় করতেন। ফেলে দেওয়া মিনারেল ওয়াটারের বোতল সংগ্রহ করে বিক্রি করার পাশাপাশি বাসাবাড়ির অবশিষ্ট রুটি শুকিয়ে গবাদিপশুর খাবার হিসেবে বিক্রি করতেন তিনি। কিন্তু উচ্ছেদের পর তার এই সামান্য আয়ের উৎসগুলোও হারিয়ে গেছে।

আখতারি বলেন, আগের এলাকায় সবাইকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখন সবাই দরিদ্র, বিপর্যস্ত এবং নিজেরাই নানা সমস্যায় জর্জরিত। এমন পরিস্থিতিতে অন্য কাউকে বাসার কাজের জন্য কে নিয়োগ দেবে?

আগে তার হাতে টাকা না থাকলে মসজিদের ইমাম কিংবা কোনো প্রতিবেশী আটা কেনার জন্য অর্থ দিয়ে সাহায্য করতেন। প্রতিবেশীরাও নিয়মিত তার খোঁজখবর নিতেন। কিন্তু নতুন বাসায় মাথা গোঁজার ঠাঁই হলেও পাশে দাঁড়ানোর মতো পরিচিত মানুষ নেই।

এখন অসুস্থ হয়ে পড়লে কী হবে, তা নিয়েও উদ্বিগ্ন তিনি। আখতারির আশঙ্কা, নতুন বাসায় একা অসুস্থ হয়ে পড়ে মারা গেলেও হয়তো কেউ জানতে পারবে না। কেউ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তার খোঁজ নেবেন—এমন আশাতেই দিন কাটছে তার।

সব মিলিয়ে, রেসকোর্স এলাকার উচ্ছেদ শুধু কয়েক শ পরিবারের ঘরবাড়ি কেড়ে নেয়নি; ভেঙে দিয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের কর্মসংস্থান, সামাজিক বন্ধন, পারিবারিক জীবন ও নিরাপত্তার অবলম্বন। ঐতিহাসিক মসজিদটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আইনি বিরোধ চলার পাশাপাশি নতুন আবাসনে বাস্তুচ্যুত মানুষদের জীবনসংগ্রামও ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

আসামে মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগে নারীদের কান্না ও মোনাজাত

ভারতে মসজিদ-মাদ্রাসায় বুলডোজার অভিযান বন্ধের দাবি, তিন দফা প্রস্তাব জমিয়তের

রাহুল গান্ধীকে ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠাতে চান আসামের মুখ্যমন্ত্রী

উত্তরাখণ্ডে ৮৬ মুসলিম পরিবারের বাড়ি উচ্ছেদ, কংগ্রেস এমপির প্রশ্ন—‘শুধু মুসলিমদের বাড়িই কি অবৈধ’

ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকের রেকর্ড পতন, সংকটে কলকাতার চিকিৎসা ও পর্যটন ব্যবসা

রাহুল গান্ধীর ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য অমিত শাহের

ভারতে শপিংমলের নামাজঘর ভেঙে দিল হিন্দুত্ববাদীরা

আসামে মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে উচ্ছেদ অভিযান, ৫৫০ পরিবার গৃহহীন

‘আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছি’ —পাইলটের শেষ কথা

‘মোদিকে পালাতে দেওয়া হবে না’, বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ বিরোধীদের