মধ্য এশিয়ার যুদ্ধপরিস্থিতি যে ভারতের সামনে যথেষ্ট কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সোমবার লোকসভায় মি. মোদি জানিয়েছেন, ভারতে গ্যাস ও জ্বালানি সংকট যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
লোকসভায় তিনি বলেছেন, "মধ্য এশিয়ার পরিস্থিতি ভয়াবহ। এ সংকট তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এই যুদ্ধ সারা বিশ্বের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে।"
তিনি বলেন, "এ যুদ্ধ ভারতের সামনে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এ চ্যালেঞ্জগুলো অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত। এছাড়াও মানবিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে।"
প্রধানমন্ত্রী মোদি মধ্য এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচলে বাধার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি জানিয়েছেন, "৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম ভারতে মজুত রয়েছে। আরও ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন মজুতের লক্ষ্য মাত্রা রেখেছে ভারত। ৪১টি দেশের সঙ্গে আমদানি নেটওয়ার্ক খোলা রেখেছে ভারত, যার মাধ্যমে জ্বালানি সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।"
"এলপিজি সমস্যার মোকাবিলা করতে দেশীয় উৎপাদন বাড়াচ্ছে ভারত। দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি নির্ভর। তাই অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকার গৃহস্থালি গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে, একই সঙ্গে পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ যাতে সারা দেশে স্বাভাবিক থাকে, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে," জানান মোদি।
তিনি বলেন, "আমি পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে দুই দফা আলোচনা করেছি। ওই দেশগুলোর নেতারা ভারতীয়দের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত, কিছু ভারতীয় মারা গেছেন।"
সংসদে এ দিন মোদি জানান, “যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তিন লক্ষ ৭৫ হাজার ভারতীয় নিরাপদে দেশে ফিরে এসেছেন। ইরান থেকে এক হাজার ভারতীয় নিরাপদে ফিরে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৭০০ জনেরও বেশি ডাক্তারি পড়ুয়া।"
এসআর