ভারতে আলোচিত ‘ককরোচ’ যুব আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক এবার দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সংস্কারের ডাক দিয়েছেন। তাঁর মতে, ভারতের রাজনীতিতে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। তিনি বলেছেন, মানুষের এখন নির্বাচন, পরীক্ষা ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপরও আস্থা কমে গেছে।
৬০ বছর বয়সী প্রকৌশলী, পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ ওয়াংচুক গত ২৮ জুন ‘ককরোচ’ আন্দোলনের সমর্থনে অনশন শুরু করেন। টানা ২৬ দিন অনশনের পর ২৪ জুলাই তিনি তা শেষ করেন। এ সময়ে তাঁর ওজন প্রায় ১১ কেজি কমে যায় এবং শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে।
ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মে মাসে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের সূচনা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিল হলে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে তরুণরা আন্দোলনে নামে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। কয়েক সপ্তাহের আন্দোলন, পুলিশি দমন এবং ওয়াংচুকের অনশনের পর ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। আন্দোলনকারীরা এটিকে বড় ধরনের রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখেন।
ওয়াংচুক বলেন, তাঁর অনশনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো ভারতের তরুণদের জেগে ওঠা। তাঁর ভাষায়, তরুণরা ভয় কাটিয়ে প্রতিবাদের শক্তি ফিরে পেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তারা পরিবর্তনের জন্য সক্রিয় থাকবে।
বর্তমানে তিনি রাজনৈতিক দল গঠনের পরিবর্তে ‘ককরোচ’ আন্দোলনকে একটি চাপ সৃষ্টিকারী নাগরিক আন্দোলন হিসেবে রাখার পক্ষে। তিনি মনে করেন, এভাবে আন্দোলনটি শিক্ষা ও অন্যান্য জনস্বার্থের বিষয়ে সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখতে পারবে।
ওয়াংচুক ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বে অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা ব্যক্তিদের পরিবর্তে সৎ ও যোগ্য মানুষকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে যোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিদের নাম সংগ্রহ করে তাঁদের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনাও করছেন।
তাঁর বক্তব্য, সৎ ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বই একটি ভালো ভবিষ্যতের প্রথম ধাপ।