হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

দান নয়, ন্যায়বিচার চায় ফিলিস্তিনিরা

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন

আমার দেশ অনলাইন

দুই বছরের গণহত্যার পর গাজা উপত্যকার মানবিক বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরছে পুরো বিশ্ব । বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রাধান্য পাচ্ছে ক্ষুধার্ত শিশু, বাতাসে উড়তে থাকা তাঁবু, ক্ষতিগ্রস্ত পানির লাইন আর ক্রসিংয়ে আটকে থাকা ত্রাণ ট্রাকের ছবি । যদিও ছবিগুলো বাস্তব, কিন্তু একে যে উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হচ্ছে, তা গভীরভাবে বিভ্রান্তিকর।

কারণ গাজা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত অঞ্চল নয়। এটি বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকা খরাপীড়িত ভূমি নয়, ভূমিকম্পে সমতল হয়ে যাওয়া শহর নয়।

গাজায় যা ঘটছে তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, সামরিক কৌশল এবং দীর্ঘস্থায়ী আধিপত্য ব্যবস্থার ইচ্ছাকৃত ফল। একে প্রাথমিকভাবে একটি মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করা কেবল ভুল নয়, বরং প্রকৃত বাস্তবতা মুছে ফেলার চেষ্টা।

গাজাকে যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, তার পেছনের উদ্দেশ্য সরল নয়। বরং এটি দায়িত্বকে আড়াল করে, ইতিহাসকে উপেক্ষা করে এবং রাজনৈতিক অপরাধকে ত্রাণ সমস্যায় রূপান্তরিত করে ইসরাইলকে জবাবদিহি থেকে রক্ষা করছে।

গাজায় ইসরাইল সামরিক সহিংসতা, অবরোধ এবং সম্মিলিত শাস্তির একটি সুশৃঙ্খল অভিযান চালাচ্ছে। এই বাস্তবতাকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করে, মানবিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, এটা গাজার আজকের পরিস্থিতির কারণ ও সমাধান উভয়কেই বিকৃত করে।

গাজার মানবিক চিত্র তুলে ধরার মাধ্যমে এর প্রকৃত কারণ আড়াল করা হচ্ছে এবং ন্যায়বিচারের পরিবর্তে ত্রাণ সরবরাহের দিকে সবার মনোযোগ সরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

অধিকারের পরিবর্তে খাদ্য পার্সেল, ঘরবাড়ির পরিবর্তে তাঁবু, স্বাধীনতার পরিবর্তে সাহায্যের গাড়িবহর। ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘ সময় ধরে দাতব্য প্রতিষ্ঠানের নিষ্ক্রিয় গ্রহীতা হয়ে উঠেছে।

যখন গাজাকে জুলুমের শিকার নয় বরং ত্রাণ প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তখন ইসরাইল গল্প থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। আর ফিলিস্তিনিরা উপনিবেশবাদ প্রতিরোধকারী জনগোষ্ঠীর পরবির্তে সাহায্যের অপেক্ষায় থাকা জনগোষ্ঠীতে রূপান্তরিত হয়।

গাজায় দুর্ভিক্ষকে প্রায়শই অভাব বা দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির ফলাফল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু গাজার ক্ষুধা দখলদারদের তৈরি করা। ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, এই বিষয়টিকে আড়াল করে মানবিক জরুরি অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

ইসরাইল ব্যাপক অবরোধ ও খাদ্য প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, কৃষিজমি ধ্বংস করেছে, বেকারিগুলোতে হামেলা করেছে এবং খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার দুর্ভিক্ষের বিষয়ে সতর্ক করলেও ইসরাইল ফিলিস্তিনকে নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিয়েছে।

ইসরাইলকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন না করে, গাজা উপত্যকাকে মানবিক সংকট হিসেবে তুলে ধরার অর্থ মূল বিষয়টি গোপন করা। গাজায় অনাহার কেবল সাহায্য সরবরাহের অভাবের কারণেই নয়; বরং ইসরাইলের অবরোধের ফল।

গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। পুরো উপত্যকা দুর্ঘটনাক্রমে নয়, বরং ইসরাইলি বোমাবর্ষণে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, নলকূপ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পৌরসভার সুযোগ-সুবিধাগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

অবরোধ এই গণহত্যার আগে থেকেই এখানে ছিল। ইসরাইল অর্থপূর্ণ পুনর্গঠন, রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন কেন চায় না, তারা তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ত্রাণ সংকটের কোনো সমাধান করবে না বরং ইসরাইলের ধ্বংসযজ্ঞকে স্থায়ী করবে।

সাহায্য মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে; এটি তাদের বেঁচে থাকার যোগ্য জীবন দিতে পারে না। এটি মর্যাদা, সার্বভৌমত্ব বা নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার করতে পারে না। এটি স্থায়ী অবরোধের মধ্যে থাকা সমাজকে পুনর্গঠন করতে পারে না।

আরএ

রমজানে কর্মঘণ্টা কমানোর ঘোষণা সংযুক্ত আরব আমিরাতের

ইরানে মার্কিন পদক্ষেপের আহ্বান রেজা পাহলভির

গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৮ ফিলিস্তিনি নিহত

রমজানে মসজিদুল আকসায় প্রবেশ সীমাবদ্ধ করার পরিকল্পনা ইসরাইলের

বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান অরুন্ধতীর

প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপকে নিষেধাজ্ঞার আদেশ বেআইনি

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ৫০ হাজারের বেশি সদস্যের রয়েছে বিদেশি নাগরিকত্ব

গাজায় ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ শতাংশ স্কুল

কয়েক বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন ট্রাম্প

সিরিয়ার আল-তানফ ঘাঁটি থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার আমেরিকার