পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। গত ৫ জুলাই থেকে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে এ নিয়ে নিহত বেড়ে ১০২ জনে পৌঁছেছে।
বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় সমন্বিত বিমান ও স্থল অভিযান জোরদার করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কোর ও পুলিশ।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তান টিভি জানায়, সবশেষ অভিযানে ১৬ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এ নিয়ে শুধু ‘অপারেশন শাবানে’ই নিহতের সংখ্যা ৬৪ জনে পৌঁছেছে। আর বেলুচিস্তানের বিভিন্ন অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা ১০২।
নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের সমূলে নির্মূল না করা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।
এদিকে, এন-২৫ মহাসড়কে পৃথক এক অভিযানে আরো দুজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, হ্যান্ড গ্রেনেড, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
এর আগে, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী দাবি করেন, জিয়ারাতে হামলাকারীরা ভারতের সমর্থিত ছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক সংঘর্ষে পুলিশ ১৫ জন হামলাকারীকে হত্যা করলেও ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন।
তিনি আরো বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে হামলাকারীরা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করেছিল।
পাকিস্তানের দাবি, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে।
এর জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ নামে সীমান্তপারের অভিযান চালায়।
পাকিস্তানের দাবি, এতে আফগান তালেবান ও তাদের মিত্রদের বহু সদস্য নিহত ও আহত হয়।
এ ছাড়া, ২০২৫ সালের অক্টোবরে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনায় পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ২০০-র বেশি তালেবান যোদ্ধা ও তাদের মিত্র নিহত হন এবং পাকিস্তানের ২৩ জন সেনাসদস্য নিহত হন।
পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হলেও আফগান তালেবান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেন, তার প্রদেশে যেকোনো মূল্যে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা বজায় রাখা হবে। কোনো সন্ত্রাসীকে পালিয়ে যেতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সূত্র: ডন
এএম