ঢাকায় পাকিস্তান ও ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়েছে। প্রতি বছর ১৪ই আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ই আগস্ট ভারত তাদের স্বাধীনতা দিবস পালন করে।
গত শুক্রবার ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনে দেশটির জাতীয় সংগীতের সুরে হাইকমিশনার ইমরান হায়দার জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। বাংলাদেশে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি নাগরিক, বাংলাদেশি শুভানুধ্যায়ী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহবাজ শরিফ এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাক দারের বাণী পাঠ করা হয়।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত পাকিস্তানিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান নেতৃবৃন্দ। তারা পাকিস্তানের জাতির পিতা কায়েদ-ই-আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল এবং পাকিস্তান আন্দোলনের নিবেদিত কর্মীদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, যাদের আত্মত্যাগ, দূরদৃষ্টি এবং অবিচল অঙ্গীকারের ফলে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল।
স্বাধীনতার পর থেকে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ক্রীড়া ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কথা তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং প্রতিষ্ঠাতাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কায়েদ-ই-আজমের ঐক্য, বিশ্বাস ও শৃঙ্খলার গাইডিং নীতিমালা সমুন্নত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। ভারতের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন মারক-ই-হক’-এর অভূতপূর্ব সাফল্যের কথা স্মরণ করে দেশের নেতৃবৃন্দ পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তাদের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন। আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা উন্নয়নে পাকিস্তান তার ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলে জোর দেওয়া হয়।
ভারতের অবৈধ অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণের সাথে পাকিস্তানের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং কাশ্মীরি জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্য রেখে জম্মু ও কাশ্মির বিরোধ সমাধানের প্রতি দেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আফগান মাটি থেকে পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় অনুষ্ঠানে। এ উপলক্ষে হাইকমিশন আয়োজিত ‘পাকিস্তানের ঐতিহাসিক স্থান’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। পাকিস্তানের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিবসটির আয়োজন শেষ হয়।
এদিকে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করেছে। গতকাল শনিবার সকালে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় ও গভীর করতে ভারত আন্তরিকভাবে আগ্রহী ।
দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, এই অভিন্ন ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারত্বের শক্ত ভিত্তির ওপর আমাদের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে।
বাণিজ্য ও যোগাযোগ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রধান প্রধান খাতগুলোতে দুই দেশের অংশীদারত্বকে এগিয়ে নিতে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমরা স্বীকার করি, অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা ও পারস্পরিক সদিচ্ছার ওপর প্রতিষ্ঠিত জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কই এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রকৃত প্রাণস্পন্দন।
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আসুন, ভারতের অব্যাহত অগ্রগতি, ঐক্য ও সমৃদ্ধির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করি।
দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, একইসঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান ব্যতিক্রমী বন্ধুত্বের বন্ধনকে লালন করি এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করি।
এআরবি