কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মুক্তি পেলে সেনাবাহিনী বা সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে সংঘাতে যাবেন না বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পিটিআই মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি। তার এই বক্তব্যকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী ও ইমরান খানের দলের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
মঙ্গলবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে কারাগার থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।
রয়টার্সকে বুখারি বলেন, ইমরান খান মুক্তি পেলে দেশের স্বার্থে সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে নিজের ক্ষোভ ও কষ্ট নিয়ন্ত্রণ করবেন। তিনি আসিম মুনিরকে পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সেনাপ্রধান চাইলে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির পথ তৈরি করতে পারেন।
জুলফিকার বুখারি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দলটি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা করতে ইচ্ছুক। যা পাকিস্তানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ অচলাবস্থাকে সম্ভবত প্রশমিত করতে পারে।
বুখারির মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সরকার ও সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সামরিক বাহিনী এর আগে জানায়, তারা রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে না। অন্যদিকে সরকার বলছে ইমরান খানের মামলাগুলো আদালতের বিষয়।
তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, পিটিআই নেতৃত্বের এই অবস্থানের সঙ্গে ইমরান খানের ব্যক্তিগত অবস্থান পুরোপুরি মিলবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। অতীতে ইমরান খান আসিম মুনিরের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন।
বুখারি জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে বর্তমানে পিটিআইয়ের কোনো আলোচনা চলছে না। একই সঙ্গে দলটি আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও পদযাত্রা করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। ইমরানের চিকিৎসা, তার সঙ্গে পরিবার-চিকিৎসক-আইনজীবী ও দলীয় নেতাদের সাক্ষাতের সুযোগ, মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি এবং শেষ পর্যন্ত তার মুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচি পালিত হবে।
সূত্র: বার্তা সংস্থা রয়টার্স
আরএ