জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও নিরপেক্ষ করতে এর কাঠামো পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতা ও সাবেক সিনেটর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল কাইয়ুম। তার মতে, নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি দেশের ভেটো ক্ষমতা এবং বিভিন্ন মহাদেশ ও মুসলিম বিশ্বের সীমিত প্রতিনিধিত্ব জাতিসংঘকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে বাধাগ্রস্ত করছে।
ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন (ইউপিএফ) ইউকের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন ও শরণার্থী সমস্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে কাইয়ুম বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলো সনদ ও জাতিসংঘের প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করলে এ সংস্থার কার্যকারিতা সীমিত হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা, ঘোষণাবিহীন পারমাণবিক অস্ত্র, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন চলছে। ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সীমান্ত বিরোধ, দারিদ্র্য, বৈষম্য, জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ, ধর্মীয় উগ্রতা এবং আন্তর্জাতিক আইন অমান্য সংঘাতের অন্যতম কারণ।
আবদুল কাইয়ুম ‘ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য ও বাস্তবভিত্তিক কূটনীতি’র ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি রাষ্ট্রগুলোকে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, ছোট রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কোনো পরাশক্তির সামরিক শক্তির ওপর নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, সামরিক শক্তিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আফগানিস্তানে ন্যাটোর ব্যর্থতা এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা সফল না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজেদের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় কোনো কোনো দেশ দীর্ঘ সময় অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতেও প্রস্তুত থাকে।
বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপ, মধ্যস্থতা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলপথে ন্যায্য বাণিজ্য, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার, সহনশীলতা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
কাইয়ুমের মতে, এসব লক্ষ্য জাতিসংঘের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে জাতিসংঘের সাফল্য শেষ পর্যন্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর নির্ভর করে।
সূত্র: ডন