কান্নায় ভেঙে পড়লেন ভারতীয় ব্যবসায়ী
জাপানে দীর্ঘ তিন দশক ধরে বসবাস করা এক ভারতীয় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। নতুন অভিবাসন নীতির কারণে ব্যবসায়িক ভিসা নবায়ন না হওয়ায় তিনি এখন ১৮ বছর ধরে পরিচালিত নিজের রেস্তোরাঁ বন্ধ করার মুখে পড়েছেন।
সাইতামা প্রিফেকচারে একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁর মালিক মনীশ কুমার সম্প্রতি টোকিওতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জাপানের ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সি তার বিজনেস ম্যানেজার ভিসা নবায়নের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।
মনীশ কুমার বলেন, দুই সপ্তাহ আগে আমাকে বলা হয়েছে, নিজের দেশে ফিরে যেতে। আমার সন্তানদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা জাপানে। তারা শুধু জাপানি ভাষাই বোঝে, তাদের বন্ধুরাও জাপানি। এখন আমাদের ভারত ফিরে যেতে বলা হচ্ছে। আমি কী করব?
তার এই ঘটনা এখন জাপানে বসবাসরত ক্ষুদ্র বিদেশি উদ্যোক্তাদের উদ্বেগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। গত বছর দেশটি ব্যবসায়িক ভিসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পর থেকেই বিদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর বিজনেস ম্যানেজার ভিসার আবেদন প্রায় ৯৬ শতাংশ কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার ৭০০ আবেদন জমা পড়ত, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৭০টিতে।
জাপান সরকার বলছে, প্রকৃত ব্যবসা পরিচালনা না করেই দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগ নেওয়া ঠেকাতেই কঠোর নিয়ম চালু করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এতে প্রকৃত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
আগে ৫০ লাখ ইয়েন বিনিয়োগ করলেই আবেদন করা যেত। এখন তা বাড়িয়ে ৩ কোটি ইয়েন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় কয়েক কোটি টাকার সমান।
সূত্র: এনডিটিভি
এআরবি