পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি নিউ স্টার্ট নবায়ন করা না হলে বিশ্ব এক নতুন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এমন মন্তব্য করেছেন, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। তিনি বলেন, ১৯৭০-এর দশকের শুরুর পর থেকে সম্ভবত এবারই প্রথমবারের মতো বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর কোনো সীমা থাকছে না।
২০১০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট থাকা মেদভেদেভের স্বাক্ষরিত নিউ স্টার্ট চুক্তিতে উভয় পক্ষের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ১,৫৫০-এ সীমাবদ্ধ করা হয়েছিল।
৫ ফেব্রুয়ারি এটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা এবং রাশিয়ান কর্মকর্তারা বলেছেন যে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিদ্যমান ক্ষেপণাস্ত্র এবং ওয়ারহেড সীমা আরো এক বছরের জন্য বজায় রাখার প্রস্তাবের বিষয়ে ওয়াশিংটন থেকে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মস্কোর বাইরে তার বাসভবনে এক সাক্ষাৎকারে মেদভেদেভ রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমি বলতে চাই না যে এর অর্থ অবিলম্বে একটি বিপর্যয় এবং একটি পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হবে, তবে এখনই সকলকে সতর্ক করে দেওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, ‘ বিপর্যয়ের ঘড়ি টিক টিক করছে এবং শীঘ্রই কোনো পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’
জানুয়ারিতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি চাচ্ছেন চুক্তির মেয়াদ শেষ হোক। ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘যদি এটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তবে মেয়াদ শেষ হোক।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আরো ভালো একটি চুক্তি করব।’
মেদভেদেভ বলেন, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিগুলি কেবল যুদ্ধাস্ত্রের সংখ্যা সীমিত করার ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেনি, বরং উদ্দেশ্য যাচাই করার এবং প্রধান পারমাণবিক শক্তির মধ্যে আস্থার কিছু উপাদান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
৬০ বছর বয়সি মেদভেদেভ বলেন যে, তার প্রায় সারা জীবনই অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন অথবা রাশিয়ার মধ্যে কোনো একটি চুক্তির আলোচনা হয়েছে।
মেদভেদেভ বলেন, ‘যখন কোনো চুক্তি হয়, তখন এর অর্থ আস্থা আছে, কিন্তু যখন কোনো চুক্তি হয় না, তখন এর অর্থ আস্থা শেষ হয়ে গেছে।’
২০২৩ সালে, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন সমর্থনের কারণে পুতিন চুক্তিতে মস্কোর অংশগ্রহণ স্থগিত করেন।