রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সোমবার ভোরে ইউক্রেনের চালানো ড্রোন হামলার ধ্বংসাবশেষ একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে পড়ে দুই শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও সাত শিশুসহ নয়জন আহত হয়েছে। রুশ আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে, ইউক্রেন তাদের স্বাধীনতার ৩৫তম বার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি, দেশটি ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর নেতাদের অংশগ্রহণে ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর একটি বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ‘একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ক্রাসনোদারের একটি বেসরকারি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে পড়ে দুই শিশু নিহত হয়েছে।
তিনি জানান, হামলায় আরও সাত শিশুসহ মোট নয় জন আহত হয়েছেন।
গভর্নর আরও বলেন, একটি ড্রোন একটি গুদামের ওপর পড়লে সেখানে আগুন ধরে যায়।
রাশিয়ার বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওজোন সোমবার জানিয়েছে, ড্রোন হামলার পর ক্রাসনোদারে তাদের একটি লজিস্টিক কেন্দ্রে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
রাশিয়ার সামরিক স্থাপনার তুলনায় দেশটির গুদামগুলোতে হামলা চালানো তুলনামূলক সহজ হওয়ায় ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে এসব স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এর ফলে রাশিয়ার অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী শনিবার জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার অন্যতম বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওজোনকে লক্ষ্য করে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। এর আগে রাশিয়ার আরেক শীর্ষ অনলাইন খুচরা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজ-এর বিভিন্ন স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছিল।
ওজোন জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে রাশিয়ার মধ্যাঞ্চলের ওরেনবুর্গ অঞ্চল, সেন্ট পিটার্সবার্গের উপকণ্ঠ এবং সামারা অঞ্চলে তাদের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা হয়েছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান চার বছরের বেশি সময় ধরে চলছে। রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বহু শহর ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এদিকে, এ সময় ইউক্রেনের হামলায় ‘বেসামরিক অবকাঠামো’ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও করে আসছে রাশিয়া ।