যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নানা প্রশ্ন সামনে এলেও বিষয়গুলো এখনো পরিষ্কার নয়, এর সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না।
ব্রিটিশ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে একাধিক অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার চেষ্টার পেছনে থাকতে পারে। এসব ঘটনার অনেকগুলোর লক্ষ্য ছিল ইহুদি সম্প্রদায়।
কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষক রব গেইস্ট পিনফোল্ড বলেন, বিমানঘাঁটিতে হামলার চেষ্টার পেছনে কারা ছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে অতীতে ইরান এই ঘাঁটিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করার হুমকি দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। কারণ, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে এই ঘাঁটি থেকে বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা এখনো অবশ্য জানি না এর পেছনে কারা ছিল। তবে ইরান অতীতে বিশেষভাবে এই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করার হুমকি দিয়েছে, কারণ ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে বোমারু বিমানগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হলেও তাতে সরাসরি অংশ নেয়নি যুক্তরাজ্য। যুদ্ধের শুরুতে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হামলার জন্য ব্রিটেনে অবস্থিত ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেছিল লন্ডন।
তবে কয়েক দিন পর তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের “প্রতিরক্ষামূলক” অভিযানের জন্য ব্রিটেনের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
গেইস্ট পিনফোল্ডের মতে, হামলার চেষ্টা প্রতিহত করা গেলেও ঘটনাটি নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কারা, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং তাদের কতটা দক্ষতা বা সক্ষমতা ছিল—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, হামলা ঠেকানো গেলেও এসব ব্যক্তির পরিচয়, তাদের উদ্দেশ্য ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থাগুলো এই হুমকি সম্পর্কে আগে থেকে কতটা জানত, সে বিষয়েও কঠিন প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
সূত্র: আল জাজিরা
এআরবি