মহাকাশে স্যাটেলাইট সুরক্ষা এবং শত্রুতামূলক তৎপরতা মোকাবিলায় নতুন একটি রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) স্কোয়াড্রন গঠনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। খবর আনাদোলুর।
বুধবার ব্রিটিশ সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, ব্রিটেনকে অবশ্যই মহাকাশ জয়ের নতুন প্রতিযোগিতায় তাল মিলিয়ে চলতে হবে।
নতুন ইউনিটটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘নম্বর থ্রি স্পেস ইফেক্টস স্কোয়াড্রন’। এতে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখার বিশেষজ্ঞ সদস্যদের একত্র করা হবে। তারা ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্কবার্তা, যোগাযোগ এবং জাহাজ চলাচলের পথনির্দেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা দেওয়া স্যাটেলাইটগুলো সুরক্ষায় কাজ করবেন।
মহাকাশে সম্ভাব্য হুমকি পর্যবেক্ষণ ও সতর্কবার্তা দেওয়ার জন্য আরএএফের দুটি ইউনিট—‘নম্বর ওয়ান স্পেস অপারেশনস স্কোয়াড্রন’ এবং ‘নম্বর টু স্পেস ওয়ার্নিং স্কোয়াড্রন’—ইতোমধ্যে কাজ করছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমওডি) জানিয়েছে, নতুন স্কোয়াড্রনটি এসব হুমকির বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেবে। শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড ‘ব্যাহত, দুর্বল ও প্রতিহত’ করতে ইলেকট্রনিক যুদ্ধসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করবে ইউনিটটি।
নতুন স্কোয়াড্রনটি আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—দুই ধরনের মহাকাশ অভিযানেও সহায়তা করবে। নতুন প্রযুক্তি সামরিক ব্যবহারের জন্য যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিটটির সক্ষমতাও আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে এমওডি।
স্ট্রিটিং বলেন, ‘১৯ শতকে প্রতিরোধ সক্ষমতার মূল উপাদান ছিল সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ।’
তিনি বলেন, ‘এ কারণেই ব্রিটেন ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তুলেছিল। ২০ শতকে বিষয়টি ছিল আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ। তাই নিজেদের সুরক্ষায় আমরা বিশ্বমানের একটি বিমানবাহিনী গড়ে তুলেছিলাম। এই শতাব্দী নির্ভর করবে মহাকাশের নিয়ন্ত্রণের ওপর।’
এমওডি জানিয়েছে, নতুন স্কোয়াড্রনটি পৃথিবীর মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নির্ভরশীল মহাকাশভিত্তিক ব্যবস্থাগুলো সুরক্ষায় সহায়তা করবে। একই সঙ্গে কক্ষপথে সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতাও আরও শক্তিশালী করবে।
এমএমআর