হোম > বিশ্ব > যুক্তরাজ্য

ব্রিটেনে নাইজেল ফারাজকে কর্মহীন শ্রমিকদের সমর্থন

দ্য গার্ডিয়ান

ব্রিটেনের শিল্পনগরী লুটনে ভক্সহল গাড়ি কারখানা বন্ধ হওয়ার পর কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের মধ্যে প্রচণ্ড হতাশা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের কর্মসংস্থান হারানোর পাশাপাশি দেশটির রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও ট্রেড ইউনিয়নের ওপরও আস্থা হারিয়েছেন অনেক শ্রমিক। তাঁদের একটি বড় অংশ এখন ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজের প্রতি সমর্থন দিচ্ছেন।

২০২৪ সালে লুটনে ভক্সহলের গাড়ি উৎপাদন কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক দশক ধরে এই কারখানা শহরটির অর্থনীতি ও মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। কারখানাটি বন্ধ হওয়ার ফলে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষ চাকরি হারান। অনেক কর্মী সেখানে ২০ থেকে ৩০ বছর বা তারও বেশি সময় কাজ করেছেন।

সাবেক শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের হতাশার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। শ্রমিকদের ভাষ্য, কারখানাটি বন্ধ ঠেকাতে তারা উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগেও সহযোগিতা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভক্সহলের মূল প্রতিষ্ঠান স্টেলান্টিস কারখানাটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

কারখানা বন্ধ হওয়ার এক বছর পর শ্রমিকদের অবস্থা নিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন ইউনাইটের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, সাবেক ভক্সহল কর্মীদের প্রায় ৩০ শতাংশ তখনও বেকার ছিলেন। যারা নতুন চাকরি পেয়েছেন, তাদের অনেকের আয় আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

সাবেক কর্মী মালিক মাহমুদের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ভক্সহলে ২৬ বছর কাজ করার পর চাকরি হারিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় নতুন কাজ খুঁজেছেন। বয়সের কারণে চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলে তাঁর ধারণা। শেষ পর্যন্ত একটি গুদামে চাকরি পেলেও আগের তুলনায় তাঁর মাসিক আয় প্রায় ১ হাজার পাউন্ড কমেছে।

শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, কারখানা বন্ধের প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের রাজনৈতিক অবস্থানেও। ইউনাইটের ওই জরিপ অনুযায়ী, আগে সাবেক ভক্সহল কর্মীদের মধ্যে লেবার পার্টির সমর্থন ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু চলতি বছরের বসন্তে ১০ শতাংশেরও কম শ্রমিক লেবারকে সমর্থন করেন। বিপরীতে ৫০ শতাংশের বেশি নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকের প্রতি সমর্থন জানান।

শ্রমিকদের ক্ষোভ অবশ্য শুধু লেবার পার্টির বিরুদ্ধে নয়। তাদের অভিযোগ, যে প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও ট্রেড ইউনিয়নগুলো দীর্ঘদিন শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার কথা বলেছে, সংকটের সময় তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। ফলে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমেছে।

লুটনের ভক্সহল কারখানা একসময় শুধু কর্মসংস্থানের কেন্দ্র ছিল না; শহরটির সামাজিক জীবন ও পরিচয়ের সঙ্গেও এটি জড়িয়ে ছিল। একসময় ভক্সহল ব্রিটেনে প্রায় ৩৭ হাজার মানুষকে সরাসরি চাকরি দিত। কারখানাকে ঘিরে বহু পরিবার বাড়ি কিনেছে, সন্তানদের শিক্ষা দিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করেছে।

কারখানা বন্ধের পর সেই সামাজিক কাঠামোও ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন সাবেক শ্রমিকরা। তাঁদের মতে, ভালো বেতন, পেনশন ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকা স্থায়ী চাকরির জায়গায় এখন অনিশ্চিত ও কম বেতনের কাজ বাড়ছে। অনেক পরিবারকে জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে খাবার ও ঘর গরম রাখার খরচ পর্যন্ত কাটছাঁট করতে হচ্ছে।

লুটনের পরিস্থিতিকে ব্রিটেনের বৃহত্তর শিল্প অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। স্কটল্যান্ডের গ্র্যাঞ্জমাউথ থেকে ওয়েলসের পোর্ট ট্যালবট—বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধ ও কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার ফলে একই ধরনের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ডানপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক শক্তি সমর্থন বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাবেক শ্রমিকদের একজনের ভাষায়, পুরনো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। আরেক শ্রমিকের মতে, একসময় যে জায়গায় হাজারো মানুষ কাজ করতেন, সেখানে এখন পড়ে আছে বিশাল এক ‘শূন্যতা’। তাঁদের আশঙ্কা, এই অর্থনৈতিক ও সামাজিক শূন্যস্থানই রিফর্ম ইউকের মতো রাজনৈতিক শক্তির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

লুটনের ঘটনাটি তাই শুধু একটি গাড়ি কারখানা বন্ধের গল্প নয়। এটি ব্রিটেনের শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি, শ্রমিকদের জীবন, ট্রেড ইউনিয়নের ভূমিকা এবং প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

শাকসু নির্বাচন না দিলে চেয়ার ছাড়ুন, প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের হুঁশিয়ারি

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে গুগল আঞ্চলিক প্রধানের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ জানালেন মন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান বলল, সবে শুরু করলাম

একদিনে ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৫৮

জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তরই বর্তমান সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ: স্পিকার

জামায়াতের দাবি নাকচ, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে ইসির ‘না’

হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু

কক্ষপথ জয় জার্মান রকেটের, ইউরোপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

দুই মামলায় জামিন পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস