ইটনায় সহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ৬ শিক্ষকের, সরজমিনে পাওয়া যায় ৩

হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ৬ শিক্ষকের, সরজমিনে পাওয়া যায় ৩
ইটনার সহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: আমার দেশ

কিশোরগঞ্জের ইটনায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অদ্ভুত চিত্র দেখা গেছে। হাজিরা খাতায় প্রধান শিক্ষকসহ ছয়জন শিক্ষক স্বাক্ষর করলেও বাস্তবে উপস্থিত ছিলেন মাত্র তিনজন। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকলেও পাঠদান করার মতো কোনো শিক্ষক ছিলেন না।

রোববার দুপুরে ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের সহিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় অনুপস্থিত ও অনিয়মে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সাত কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১ ১ অক্টোবর রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ধনপুর ইউনিয়নের সহিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেন ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর। পরিদর্শনকালে বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় প্রধান শিক্ষকসহ ছয়জন শিক্ষকের স্বাক্ষর থাকলেও বাস্তবে উপস্থিত পাওয়া যায় মাত্র তিনজনকে। তিনটি ক্লাসের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে বসে থাকলেও পাঠদানের দায়িত্বে কোনো শিক্ষককে পাওয়া যায়নি।

পরিদর্শন বইতে ইউএনও মাখন চন্দ্র সূত্রধর লিখেছেন, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে হাজিরা রেজিস্টার চেক করে প্রধান শিক্ষকসহ ছয়জন শিক্ষকের স্বাক্ষর পাওয়া যায়। কিন্তু পরিদর্শনকালে মাত্র তিনজন শিক্ষককে উপস্থিত পাওয়া যায়, যা চাকরি বিধির চরম লঙ্ঘন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২১৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে এই বিদ্যালয়ে মোট সাতজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত একটি মামলার আসামি হওয়ায় সহকারী শিক্ষক সুপ্রভাত দাস দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত আছেন। এছাড়া অনুপস্থিত থাকা অন্য দুই সহকারী শিক্ষকের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি ১২টার দিকে স্কুল থেকে বাইরে গিয়েছি। সহকারী শিক্ষক সজল বিশ্বাস পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সেক্রেটারি হওয়ায় থানায় ডেকেছিল, তিনি সেখানে গেছেন। আরেক শিক্ষক পারিবারিক সমস্যার কারণে বাড়িতে ছিলেন। আমরা সবাই সকালে স্কুলেই ছিলাম।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ‘বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে ছয়জন শিক্ষকের স্বাক্ষর পেলেও তিনজনকে উপস্থিত পেয়েছি। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে শোকজ করা হয়েছে।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম এহছানুল হক জানান, যে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন