এক অর্থবছরে ৩৮৭ কোটি টাকা রাজস্ব অর্জন মোংলা বন্দরের

খুলনা ব্যুরো

এক অর্থবছরে ৩৮৭ কোটি টাকা রাজস্ব অর্জন মোংলা বন্দরের
মোংলা বন্দর। ফাইল ছবি

২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং রাজস্ব আয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে মোংলা বন্দর। এ সময়ে বন্দরটিতে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার টন কার্গো ও ২৯ হাজার ৭২৪ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। রাজস্ব আয় হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ ১২ হাজার টাকা।

গতকাল মঙ্গলবার খুলনার খালিশপুরের পোর্ট অডিটোরিয়ামে খুলনাস্থ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা।

বিজ্ঞাপন

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার টন। আগের অর্থবছরের তুলনায় এটি ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টন বা ১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি।

কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫ হাজার টিইইউএস। এর বিপরীতে হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭২৪ টিইইউএস। আগের অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছে ৮ হাজার ২৪৮ টিইইউএস বা ৩৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আয় হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ ১২ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব বেড়েছে ৪০ কোটি ৮২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বা ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

গত অর্থবছরে মোংলা বন্দরে ৮১৫টি জাহাজ এসেছে। একই সময়ে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৯৬টি বেশি।

3333

সভায় বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানির চাহিদা পূরণে মোংলা বন্দরের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্যেও বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য অবকাঠামো, যোগাযোগ ও নৌপথের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নাব্যতা ধরে রাখাকে বন্দরের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, বর্তমানে জেটির সামনে ৭ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ বার্থিংয়ের সুবিধা রয়েছে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তা ৯ দশমিক ৫ মিটারে উন্নীত করার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, নাব্যতা বাড়াতে পশুর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং করা গেলে জেটি পর্যন্ত ৯ দশমিক ৫ থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

বন্দরটির সক্ষমতা বাড়াতে ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ভারতীয় এলওসি-৩-এর অর্থায়নে এ প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার টার্মিনাল, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড ও ডেলিভারি ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা তৈরি করা হবে। যুক্ত করা হবে আধুনিক যন্ত্রপাতিও।

মোংলা বন্দরের জন্য সহায়ক জলযান সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় দুটি টাগবোট, একটি বয়া লেইং ভেসেল, একটি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ভেসেল, একটি পাইলট মাদার ভেসেল এবং একটি সার্ভে অ্যান্ড রিসার্চ ভেসেল সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা।

বন্দর ব্যবহারকারীদের সেবা সহজ করতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু রয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান। পারমিশন, ইকুইপমেন্ট বুকিং ও বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে। ই-পেপার সার্ভিসের কাজও শেষ হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মোংলা বন্দরে জাহাজ চলাচলে জট নেই বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কনটেইনারবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম ১ দশমিক ৮০ দিন এবং অন্যান্য জাহাজের ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৪৪ দিন। বন্দরের ছয়টি কনটেইনার ইয়ার্ডে প্রায় ছয় হাজার টিইইউএস কনটেইনার রাখার সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া দুটি কার পার্কিং ইয়ার্ডে প্রায় দুই হাজার গাড়ি সংরক্ষণ করা যায়।

মতবিনিময় সভায় বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার, সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) প্রকৌশলী শেখ শওকত আলী, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কমান্ডার এস এম আফজালুল ইসলাম, পরিচালক (বোর্ড) কালাচাঁদ সিংহ, হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. সালাহ্ উদ্দিন কবির এবং খুলনায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন