বান্দরবানের থানচি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বলিবাজার ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোর ৪টার দিকে লাগা আগুনে ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের হিসাবে এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; গত কয়েক বছরে দফায় দফায় এমন অগ্নিকাণ্ডে বাজারটির সার্বিক অগ্নিসুরক্ষা, ব্যবসায়ীদের অসচেতনতা ও কাঠামোগত অব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, বাজারের দায়িত্বে থাকা নৈশপ্রহরীরা ভোররাতে হঠাৎ একটি দোকানে আগুনের শিখা দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোয় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবি সদস্যরা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে ১৩টি দোকানের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
বলিবাজারে অগ্নিকাণ্ড যেন এক নিয়মিত দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্যানুযায়ী ২০২০ সালে ভয়াবহ আগুনে পুড়েছিল ১০৯টি দোকান, ২০২৩ সালে ভস্মীভূত হয় ৫০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ২০২৫ সালে ছাই হয় ১৩টি দোকান, ২০২৬ চলতি বছর ১৩টি দোকান পুড়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।একবার ক্ষতি সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে না করতেই পরবর্তী দুর্যোগে নিঃস্ব হচ্ছেন বলিপাড়ার ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এতবড় একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে জরুরি মুহূর্তে আগুন নেভানোর মতো কোনো কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। ফলে ছোট কোনো স্ফুলিঙ্গ বা ধোঁয়া দেখা গেলেও তা প্রাথমিক পর্যায়েই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় না।
বাজারে গভীর রাত অবধি কিছু দোকান খোলা থাকে। কাজ শেষে তাড়াহুড়া করে বন্ধ করার সময় অনেক দোকানে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, ফ্যান বা ফ্রিজ অনিরাপদ অবস্থায় চালু রেখে যান মালিকরা। রাতে এসব দোকানে কেউ অবস্থান না করায় ভেতরের ত্রুটি বা শর্টসার্কিট দ্রুত বড় অগ্নিকাণ্ডে রূপ নেয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বারবার অগ্নিঝুঁকি কমাতে সচেতনতামূলক পরামর্শ ও সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও অধিকাংশ ব্যবসায়ী তা মানতে চান না।
এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বলিবাজারের অধিকাংশ বড় ব্যবসায়ী বাঙালি। কেন বাজারটিতে বারবার আগুন লাগে তা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা উচিত।
বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। বারবার এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি রোধে স্থায়ী ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
থানচি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন মাস্টার রহিদুল ইসলাম মৃধা জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বারবার সতর্ক করার পরও বাজারে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

