চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ব্রিটিশ আমলে মাওলানা মোহাম্মদ ওবায়দুল হক (র.) যে শিক্ষার প্রদীপ প্রজ্বলিত করেছিলেন, শতবর্ষ পেরিয়েও তার আলো ছড়িয়ে পড়ছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। তার প্রতিষ্ঠিত সীতাকুণ্ড কামিল এম.এ. মাদরাসা শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয় এটি শিক্ষা জাগরণ, নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক সমাজ গঠনের ঐতিহাসিক স্মারক।
শিক্ষা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মান অর্জন করে প্রতিষ্ঠান। ওই স্বীকৃতির অংশ হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে ক্রেস্ট ও সনদ গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা।
জানা যায়, একসময় সীতাকুণ্ডসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার প্রসার ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বাস্তবতায় শিক্ষা বিস্তারকেই সমাজ পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন মাওলানা মোহাম্মদ ওবায়দুল হক (র.)।
১৮৫৬ সালে উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার উদ্যোগে ১৮৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সীতাকুণ্ড কামিল এম.এ. মাদরাসা।
১৯৯৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি লাভ ছিল এই দীর্ঘ শিক্ষা সাধনার অন্যতম বড় অর্জন। শিক্ষা বিস্তার, সুশৃঙ্খল পরিবেশ, নৈতিক শিক্ষা ও ধারাবাহিক সাফল্যের মূল্যায়ন হিসেবেই এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে প্রাপ্ত ক্রেস্ট ও সনদ আজও প্রতিষ্ঠানটির গৌরবের স্মারক হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।
সীতাকুণ্ড কামিল এম.এ. মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গনি আমার দেশকে বলেন, ১৯৯৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে ক্রেস্ট ও সনদ গ্রহণের ঘটনা আমাদের দীর্ঘ শিক্ষা সাধনার ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা সমাজ ও রাষ্ট্রে কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে, সেটিই একটি প্রতিষ্ঠানের বড় অর্জন। আমাদের বহু শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বহন করছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

