পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত ও গুরুতর আহতদের ২২ পরিবারকে ঈদ উপহার দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলাম।
শনিবার সকালে ঈদ উপহার সামগ্রী নিয়ে তাদের বাসায় উপস্থিত হন তিনি। এ সময় তিনি আহত ও নিহতদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন। প্রত্যেক পরিবারের জন্য মাংস, তেল ও মসল্লাসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে আসেন ইউএনও।
জানা যায়, গত বছর ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনে গিয়ে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে গুলিবিদ্ধ হন হৃদয় চন্দ্র তরুয়া। পরে ২৩ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হৃদয় চন্দ্র তরুয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার ঘটকের আন্দুয়া গ্রামে। বাবা রতন চন্দ্র তরুয়া পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি।
আহত ২১ জনের মধ্যে আরিফুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গত ২২ ফেব্রুয়ারি আরিফুল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম নিজস্ব অর্থায়নে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। শুক্রবার (৬ জুন) চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়িতে আসেন।
মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে ভ্যানে আতর ও টুপি বিক্রি করতেন আরিফুল ইসলাম (২১)। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন মিরপুরেই। গত বছর ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন তিনি। এদিন বাঁ-পায়ে চারটি গুলি লাগে তার। এরপর থেকেই শয্যাশায়ী আরিফুল।
আরিফুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি মাধবখালী ইউনিয়নের নতুন শ্রীনগর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মো. হারুন অর রশিদের ছেলে।
গুরুতর আহত আরিফুল ইসলাম বলেন, ছাত্র জনতার আন্দোলনে ৪ আগস্ট আমার বাঁ-পায়ে চারটা গুলি লাগে। ওই সময় একমাস চিকিৎসা শেষে আমাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিছু দিন পরে বাঁ-পায়ের নিচে পচন ধরে যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলামের সহযোগিতায় আমাকে সিএমএইচে ভর্তি করানো হয়। এখনো আমি হাঁটতে পারি না, বাঁ-পায়ে খাঁচা পরানো আছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.তরিকুল ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মির্জাগঞ্জ উপজেলার হৃদয় তরুয়া নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২১ জন। আহতদের পায়ে গুলি লাগে। অনেকের চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কারো মাথায় গুলি আটকে রয়েছে। এখনো অনেকে হাসপাতালে ভর্তি আছে। কেউ কেউ জীবিকার তাগিদে পায়ে ক্ষতচিহ্ন নিয়ে রিকশার প্যাডেল ঘুরাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে সরকারিভাবে এবং কিছু মহান ব্যক্তির সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
আজ ঈদের দিনেও তাদের বাড়িতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আহতদের মধ্য যারা এলাকায় নেই তাদের কাছেও উপহারের সমপরিমাণ অর্থ পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

