মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের নির্ধারিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে মাছ ধরতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা। দীর্ঘ ২২ দিন কর্মহীন থাকার পর নদীতে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণ করে নিজেদের আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন তারা।
গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। এ সময় সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে দশমিনার তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে অভিযান চালিয়ে ৬৫ জন জেলেকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা এবং বাকিদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়। এ সময় ৩৫টি জেলে নৌকা আটক করা হয়। পাশাপাশি ৯ লাখ ৪৫ হাজার ১০০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। এ ছাড়া ৪৫২ মেট্রিক টন মা ইলিশ জব্দ করে বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে টানা ২২ দিন নদীতে নামতে না পারায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন উপকূলের অনেক জেলে। সংসারের খরচ মেটাতে কেউ মুদি দোকানে বাকিতে বাজার করেছেন, আবার কেউ পরিচিতজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে দিন কাটিয়েছেন। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় তাদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
রণগোপালদী ইউনিয়নের চর গুনি গ্রামের জেলে আনোয়ার হোসেন ফকির বলেন, ২২ দিন মাছ ধরতে পারিনি। আয় বন্ধ থাকায় ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছি। এখন নদীতে গিয়ে ইলিশসহ বড় মাছ পাওয়ার আশা করছি। মাছ বিক্রি করে সেই ধারদেনা পরিশোধ করতে পারব।
উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান ও কড়া নজরদারি চালানো হয়েছে। এ কর্মসূচির ফলে ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে তাঁরা আশাবাদী। তিনি জেলেদের যথাযথভাবে মৎস্য আইন মেনে মাছ আহরণের আহ্বান জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে মা ইলিশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে জেলেদের অবশ্যই আইন মেনে মাছ ধরতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

